আনন্দ কুমারের ‘সুপার ৩০’ সম্মান পেল মার্কিন মুলুকে, পুরস্কার হাতে গণিতবিদ বললেন, ‘শিক্ষাদানই সেরা উপহার’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পটনার নিম্নবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছাত্র কেমব্রিজের ডাক পেয়েও অর্থাভাবে পৌঁছতে পারেননি তাঁর স্বপ্নের ল্যান্ডমার্কে। সমাজ বদলাবার ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর লড়াই। তাঁরই মতো অন্যরা, সমাজ ব্যবস্থা যাদের স্বপ্ন দেখাতেও ট্যাক্স বসিয়ে রেখেছে, তাদের জন্য একটা রাস্তা তৈরি করতে গড়ে তুলেছিলেন ‘সুপার ৩০।’ পটনার গণিতবিদ আনন্দ কুমারের নাম আজ পরিচিত গোটা দেশেই। তাঁর লড়াইয়ের গল্প নিয়ে সিনেমা বানিয়েছে বলিউড। ছাত্র গড়েপিটে নেওয়ার এই কারিগর এ বার সম্মান পেলেন আন্তর্জাতিক স্তরেও। শিক্ষকতায় ব্যতিক্রমী ভাবনার জন্য আনন্দ কুমারকে পুরস্কৃত করল ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ফাউন্ডেশন অব এক্সিলেন্স’।

    ৪৬ বছরের এই শিক্ষকের হাতে ‘এডুকেশন এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ তুলে দেয় ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ফাউন্ডেশন অব এক্সিলেন্স (FEE)।’ প্রতি বছরই ব্যতিক্রমী প্রতিভাদের সম্মানিত করে এই সংগঠন। এ বছর এই সম্মান পেলেন গণিতবিদ আনন্দ কুমার। আপ্লুত শিক্ষক বললেন, “দারিদ্র আমাদের দেশে শিক্ষার একটা প্রধান অন্তরায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বেকারত্ব, পরিবেশ ধ্বংস সমানে চলছে। এমন জটিল পরিস্থিতিতে গতে বাঁধা শিক্ষা নয়, অন্য রকম ভাবনা ছড়িয়ে দিতে হবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।”

    পটনার প্রত্যন্ত গ্রামের সরকারি হিন্দি মিডিয়ার স্কুলের কৃতী ছাত্র ছিলেন আনন্দ। বাবা সামান্য কেরানি। পটনার পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে খুবই কম মাইনের চাকরি। বাবার মৃত্যুর পর সংসারে আঁধার নামলেও, হাল ছাড়েননি আনন্দ। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে পাঁপড় ফেরি করেছেন। তার মধ্যেই স্বপ্ন দেখেছেন গণিতজ্ঞ হওয়ার। নিজেও পড়েছেন, অন্যকেও পড়িয়েছেন। দিনের পর দিন বিনা পয়সায় টিউশন দিয়েছেন এলাকার মেধাবী ছাত্রদের। তাঁর হাত ধরেই বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পেয়েছে হারিয়ে যেতে বসা অনেক প্রতিভা।

    ১৯৯৫ সালে একই সঙ্গে কেমব্রিজ ও শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ এলেও অর্থাভাবে যেতে পারেননি আনন্দ। তবে বিদেশের ম্যাগাজিনে লেখালিখি করতেন তিনি। ‘নম্বর থিওরি’-র উপর তাঁর একাধিক গবেষণার পেপার ছাপা হয় ‘ম্যাথেমেটিকাল স্পেকট্রাম’ ও ‘দ্য ম্যাথেমেটিকাল গেজেট’ পত্রিকায়। তাঁর সেরা কীর্তি ‘সুপার ৩০।’ জয়েন্ট এন্ট্রাস ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি)-র কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষায় এক ধাপেই বাজিমাত করার জন্য ছাত্রছাত্রীদের তৈরি করতেই এই কোচিং সেন্টার। তৈরি করেন ২০০২ সালে।   দুঃস্থ পরিবারের মেধাবি ৩০ জন ছাত্রকে বেছে নেন আনন্দ। বিনা পয়সায় তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। ওই বছরই তাঁর টিমের ১৮ জন ছাত্র আইআইটি-তে সুযোগ পায়। তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাঁর কোচিং সেন্টারের বাইরে লম্বা লাইন দেন বাবা, মায়েরা। সাফল্যের হারও বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। ২০০৪ সালে ২২ জন, ২০০৫-এ ২৬, ২০০৬-তে ২৮, ২০০৮-এ পুরোপুরি ৩০। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে তাঁর ৪৫০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৩৯১ জন আইআইটি ক্র্যাক করেছেন। গত বছরও তাঁর ‘সুপার ৩০’-র ২৮ জন সুযোগ পেয়েছেন আইআইটিতে।

    আনন্দ কুমারের কথায়, “ভারতীয়রা আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের কৃতিত্বের ছাপ রাখছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে যদি নজর দেন প্রবাসীরা তাহলে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন। শিক্ষাদানের থেকে বড় উপহার আর কিছুই হতে পারে না।”

    আরও পড়ুন:

    ফ্রি-তে গরিব পড়ুয়াদের আইআইটি-জয়েন্ট কোচিং, আনন্দ কুমার ও দেশের আরও চার শিক্ষক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More