সোমবার, এপ্রিল ২২

মঞ্চে মন্ত্র পড়ছেন দিদি, ভাইয়েরা রামনবমীতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চৈত্রের শেষ বিকেলে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পাশাপাশি কলকাতার রাস্তায় রামনবমীর মিছিল করবে তৃণমূল যুব কংগ্রেস।

উত্তর কলকাতা এবং দক্ষিণ কলকাতার জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে রবিবার ওই মিছিল হবে বলে জানা গিয়েছে। দক্ষিণের মিছিলটি হবে গড়িয়াহাট থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত এবং উত্তরের মিছিলটি হবে জোড়াসাঁকো থেকে চৌরঙ্গী পর্যন্ত।

ওই দিন বিশ্বহিন্দু পরিষদ সহ একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন কলকাতার রাজপথে রামনবমীর শোভা যাত্রা বার করবে। মানিকতলা, কাশীপুর, বেলগাছিয়া, বড়বাজার, বেহালা, ভবানীপুর, টালিগঞ্জের মতো জায়গায় মিছিল করবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। প্রায় ১৬টি মিছিল বেরনোর কথা ওই দিন। বাদ যাবে না তৃণমূলও।

বিজেপি-কে আক্রমণ করতে গিয়ে গত কয়েক মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার বলেছেন, “কেন বলব জয় শ্রীরাম? আমি বলব জয় মা দুর্গা। জয় মা কালী। জয় সন্তোষী মা।”  কিন্তু ভোট বড় বালাই। সবে প্রথমদফার ভোট হয়েছে। এখনও ছ’দফার ভোট বাকি। এর মাঝে রামনবমীকে যে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি কাজে লাগিয়ে মেরুকরণকে তীব্র করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই ভোট বাজারে তৃনমূলও কলকাতার বুকে গেরুয়া শিবিরকে রাস্তা ছাড়তে নারাজ। তারাও হাঁটবে মিছিলে।

কলকাতার দুই কেন্দ্রের হিসেব কষলে পরিষ্কার, এখানে সং খ্যা গরিষ্ঠ ভোটার অবাঙালি। যাদের মধ্যে আবার বেশিরভাগটাই হিন্দু। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের ঠেলায় এ সব করতে হচ্ছে শাসক দলকে। গত নভেম্বরে পোস্তার ব্যবসায়ী সমিতির জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত জনতার সামনে নিজের অনুযোগ জানিয়েছিলেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী বলেছিলেন, “আমি জানি, এখানকার অবাঙালি ভোটাররা আমাদের ভোট দেন না।” তারপর দিদি বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন, তাঁর সরকার বাঙালি-অবাঙালি ভেদাভেদ রাখেনি। ছট পুজোতেও বাংলার সরকার ছুটি দেয়, কোনও ভিন রাজ্যের মানুষকে কলকাতায় আক্রান্ত হতে হয় না, এইসব। এর আগে তৃণমূলের অনেক নেতাকেই রামনবমীর মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। গতবছর রামনবমীতে তৎকালীন  ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা এ বারে ব্যারাকপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং-এর মিছিল তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সকলকে। তবে এ বার ভোট। তাই বাড়তি উদ্যোমে রামনবমী উদযাপন করবে তৃণমূল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি এমনিতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তোলে। আর তৃণমূল সেটাকে প্রতিহত করতে পাল্টা হিন্দুত্ব জাহির করে। যেমন, ডিসেম্বরে যখন রথযাত্রা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে আদালতে, সেই সময় পাল্টা হিসেবে তৃণমূল মঙ্গলযাত্রার কর্মসূচি নিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, একই কারণে এ বার রাম নবমীতে মিছিল করছে দলের যুব সংগঠন।

Shares

Comments are closed.