দুই হাসপাতাল ঘুরে মেডিক্যালের উঠোনে মৃত্যু জয়নগরের তরুণের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও ইছাপুরের তরুণ শুভ্রজিতের মৃত্যুর রেশ কাটেনি। এর মধ্যেই ফের একাধিক হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের উঠোনে ছটফট করতে করতে মারা গেলেন এক ২৬ বছরের তরুণ। মৃতের নাম অশোক রুইদাস। সোমবার মেডিক্যালের উঠোনে আরও এক সদ্য মা হওয়া তরুণীর দীর্ঘক্ষণ বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আকড়ার বাসিন্দা ২৫ বছরের মনীষা দাসকে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে আনা হয়েছিল মেডিক্যালে। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তি না নিয়ে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখা হয়।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বাসিন্দা অশোকের বাড়ির লোক জানিয়েছেন, গত ১৪ দিন ধরে দক্ষিণ বারাসতের একটি নার্সিংহোমে টাইফয়েড নিয়ে ভর্তি ছিলেন তিনি। কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় আরও ভাল চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতায় আসা হয় সোমবার সকালে। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু এসএসকেএম থেকে বলা হয় বেড নেই। সেখান থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মৃতের বাবা জানিয়েছেন, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট বলে দেয়, তাঁরা জ্বরের রোগীকে ভর্তি নেবে না। তারাই একটি অ্যাম্বুলেন্স করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

    ১০২ নম্বর অ্যাম্বুলেন্সে অশোককে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয় মেডিক্যাল কলেজে। উঠোনের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে তাঁকে শুইয়ে রেখে ফর্ম ফিলআপের পর্ব চলে। কিন্তু মিনিট ১৫-২০। তারপরই সব শেষ!

    মেডিক্যালের উঠোনেই মৃত্যু হয় জয়নগরের তরুণের। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সকাল থেকে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁরা তাঁদের ছেলেকে নিয়ে একটার পর একট হাসপাতাল ঘুরেছেন। কিন্তু কোথাও ঠাঁই হয়নি। মৃতের দাদার অভিযোগ, শম্ভুনাথ পণ্ডিত থেকে যে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয়, তাতে অক্সিজেনের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। শ্বাসকষ্ট থাকা অশোক ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন।

    সকালে অশোক রুইদাসের মৃত্যুর পর দুপুরে আকড়ার বাসিন্দা মনীষা দাসকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে আনা হয় মেডিক্যাল কলেজে। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকেও ভর্তি না নিয়ে স্টেচারে ফেলে রাখা হয়েছিল। অনেক পরে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

    চিকিৎসা মহলের মতে, গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসা করার একটা গোল্ডেন টাইম থাকে। সেই সময়ের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করতে হয়। নইলে প্রাণহানি ঘটে গেলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকে না। আর বারবার দেখা যাচ্ছে, সেই গোল্ডেন টাইম হাতছাড়া করার কারণেই মৃত্যু হচ্ছে রোগীদের। অশোক রুইদাসকে কেন এসএসকেএম ও শম্ভুনাথ পণ্ডিত ফিরিয়ে দিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকের বক্তব্য, এই দুই হাসপাতালেই ফিভার ক্লিনিক রয়েছে। সেখানেই ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর লালারসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারত। কিন্তু তা না করে রোগীকে অ তাঁর পরিবারকে সারা কলকাতা চক্কর কাটানো হয়েছে।

    এই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ফের একবার মেডিক্যালের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, সরকার মুখে যতই বড় বড় কথা বলুক, বাস্তবে বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। পর পর তরুণ-তরুণীদের মৃত্যু সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। তাঁদের আরও বক্তব্য, সরকার এতটাই অমানবিক যে, এই মৃত্যুগুলো ঘটছে দেখেও পরিবারের উদ্দেশে একটা সমবেদনার বার্তা দিচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য, এই যদি কলকাতা শহরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ছবি হয় তাহলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে কী অব্যবস্থা চলছে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More