ঠাকুমাকে কুপিয়ে খুন করল নাতি! ফেসবুক লাইভে স্বীকার অপরাধ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠাকুমাকে কুপিয়ে খুন করল মানসিক ভারসাম্যহীন নাতি। তারপর ফেসবুক লাইভ করে নিজের অপরাধ স্বীকার করে সে। হুগলি জেলার ব্যান্ডেলে ঘটেছে এই ভয়াবহ ঘটনা। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক ব্যান্ডেল ক্যাওটা কুলতলার বাসিন্দা। তার নাম ইন্দ্রনীল রায়।

    পুলিশ জানিয়েছে, আজ সকালে বাড়ির একটি ঘরে বসেছিলেন ইন্দ্রনীলের বাবা-মা এবং ঠাকুমা। আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে মা-বাবা এবং ঠাকুমার দিকে তেড়ে যায় ওই যুবক। ইন্দ্রনীলের মা-বাবা কোনওমতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু বয়সের ভারে তাড়াতাড়ি ঘরে ছেড়ে বেরতে পারেননি ইন্দ্রনীলের ঠাকুমা। এরপরেই নিজের ঠাকুমাকে কুপিয়ে খুন করে ওই যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, চোট পেয়েছেন ইন্দ্রনীলের মা-বাবাও। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁরা।

    ইন্দ্রনীল রায়

    এলাকায় ভালো ছাত্র হিসেবেই পরিচিত ছিল ইন্দ্রনীল। জানা গিয়েছে শ্রীরামপুর কলেছে ছাত্র ছিল সে। কিন্তু ইন্দ্রনীলের পরিবার জানিয়েছে মারাত্মক ভাবে নেশাসক্ত ছিল সে। এমনকী নিত নানা নিষিদ্ধ ড্রাগও। রবিবার রাতেও অতিরিক্ত নেশা করেছিল সে। তারপর সোমবার সকাল হতেই সামান্য কোনও কারণে বাড়ির লোকের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয় ইন্দ্রনীলের। এরপরেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে সবার দিকে তেড়ে যায় সে। এ যাত্রায় ইন্দ্রনীলের মা-বাবা প্রাণে বেঁচে গেলেও নাতির হাতে খুন হন বৃদ্ধা ঠাকুমা।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঠাকুমাকে খুনের পর ঘরের দরজা বন্ধ করে বসেছিল ইন্দ্রনীল। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে উদ্ধার করে দেহ। সে সময় পুলিশের উপরেও চড়াও হয় ইন্দ্রনীল। এরপর বৃদ্ধার দেহ নিয়ে পুলিশ ঘরের বাইরে আসতেই ফের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয় ওই যুবক। শুরু করে ফেসবুক লাইভ। নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানায়, ঠাকুমাকে সেই খুন করেছে। এই ঘটনার জন্য আর কেউ দায়ী নয়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ঘরের তালা ভেঙে ইন্দ্রনীলকে উদ্ধার করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। তাকে আটক করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, ইন্দ্রনীল নেশা করত সেটা কেউ কেউ জানতেন। মাঝে মাঝে চিৎকার চেঁচামেচি, ঝগড়ার আওয়াজ আসত রায়বাড়ি থেকে। তবে সেটা সাংসারিক ঝামেলা বলেই ভেবেছিলেন সকলে। বরাবরের শান্ত ইন্দ্রনীল যে এমন ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাতে পারে তা ভাবেননি প্রতিবেশীদের কেউই। তবে যুবকের পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত নেশা করার ফলেই ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল ইন্দ্রনীলের। অনুমান, তার জেরেই এমন কাণ্ড ঘটয়েছে সে। গোটা ঘটোনার তদন্তে নেমেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More