Breaking: সাত ঘণ্টা উধাও থাকার পরে খোঁজ মিলল আলিপুরদুয়ারের ডিএম-এর হাতে মার খাওয়া যুবকের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার রাত থেকে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্য প্রশাসনে। একটি ভিডিও ফুটেজে স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা দেশ। এক জন ডিএম কি না স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে থানায় ঢুকে পেটাচ্ছেন অভিযুক্তকে। আলিপুরদুয়ারের ডিএম নিখিল নির্মল এবং তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণের সেই কাণ্ডের পর অনেক দূর জল গড়িয়েছে। সোমবারই তাঁকে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছে নবান্ন। কিন্তু আলিপুর দুয়ারের ফালাকাটা থানার সেই ঘটনা মঙ্গলবার মোড় নেয় অন্য দিকে।

সোমবার অভিযুক্ত যুবক বিনোদ সরকারকে কোর্টে তোলা হলে তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। ডিএম এবং তাঁর স্ত্রীর মারে ‘আহত’ বিনোদ মঙ্গলবার সকালে ভর্তি হন ফালাকাটা হাসপাতালে। কিন্তু বিকেল বেলায় তাঁকে পরিবারের লোক হাসপাতালে দেখতে গিয়ে দেখেন বেডে নেই বিনোদ। বিনোদের এই ‘উধাও’ হয়ে যাওয়া নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় ফালাকাটায়। স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখান হাসপাতালের সামনে। তবে ঘণ্টা সাতেক পরেই খোঁজ মেলে তাঁর। সূত্রের খবর, হাসপাতাল লাগোয়া একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দফতরে বসে ছিলেন তিনি।

তবে ওই সাত ঘণ্টা ধরে ওই অফিসে তিনি কী করছিলেন, তা নিয়ে লোকজনের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিনোদের দাবি, বাড়ির লোকজন ওই অফিসে অপেক্ষা করছে বলে ‘পুলিশ’ তাকে সেখানে নিয়ে যায়। অথচ,সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ বিনোদের বাবা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। সে সময় কেন তাঁকে বিনোদের খোঁজ দেওয়া হল না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক কর্মীর দাবি, যে সময় বিনোদকে এখানে নিয়ে আসা হয়, সে সময় কেউ ছিল না দফতরে। পরে বিনোদ যে ওখানে রয়েছে, তা পুলিশকে জানানো হয়। আবার অন্য একটি সূত্রের দাবি, বিনোদকে মারধরের ঘটনায় ওই সংগঠনের তরফেই পুলিশের কাছে সোমবার অভিযোগ দায়ের করা হয়।

কিন্তু ঠিক কী কারণে বিনোদকে দুপুর দু’টো থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত ওই সংগঠনের দফতরে বসিয়ে রাখা হয়, তা নিয়ে অবশ্য কেউ মুখ খোলেন নি।

বিনোদের বাবা যদিও এ দিন সন্ধেয় পৃথক ভাবে আলিপুরদুয়ার জেলাশাসক ও তাঁর স্ত্রীর নামে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে বিনোদ অবশ্য সে বিষয়ে মুখে কুলুপ আঁটেন। ওই যুবকের কথায়, “রবিবারের ঘটনা নিয়ে কিছু বলার মতো পরিস্থিতিতে আমি নেই। এ বিষয়ে যা বলার পরে বলব।“ তবে নানা মহলের অভিযোগ, জেলাশাসক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিনোদ নতুন করে যাতে মুখ না খোলেন, সে জন্য পুলিশ আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে।

বিনোদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ফেসবুকের একটি গ্রুপে ডিএম-এর স্ত্রীকে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এই অভিযোগে প্রথমে তাঁকে থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ডিএম এবং তাঁর স্ত্রী এসে শুরু করেন ‘তাণ্ডব।’ ওই ভিডিও ফুটেজে শোনা গিয়েছিল, ডিএম বলছেন, “আমার জেলায়, আমার উপরে কেউ কথা বলবে না।” এবং গোটা ফুটেছে পুলিশ ছিল কার্যত নির্বাক দর্শক। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় ওই ভিডিও। দ্য ওয়ালই প্রথম ওই খবর প্রকাশ করেছিল।

সোমবার ধৃত বিনোদকে কোর্টে তোলার সময় আদালত চত্বরে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন বিনোদ। বলেন, “আগে আমায় গালিগালাজ করেছিল। তার পরে আমি করেছি। আমি জানতাম না উনি ডিএম-এর স্ত্রী। আর আমি যদি দোষী হই, তাহলে আদালতে আমার বিচার হবে। ডিএম এবং তাঁর স্ত্রী আমায় মারলেন কেন?”

সোমবার সকাল থেকেই ডিএম এবং তাঁর স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। যত বেলা গড়ায় তত সামনে আসতে থাকে ডিএম এবং তাঁর পরিবারের কাণ্ড-কারখানা। কেউ বলেন, ডিএম-এর শাশুড়িকেও পুলিশ এসকর্ট দিত, আবার কেউ অভিযোগ করেন, বাজার করে যা দাম হয় তা দেন না ডিএম এর আত্মীয়রা।

তবে হাসপাতাল থেকে বিনোদের ‘উধাও’ হওয়া নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে। ফালাকাটা হাসপাতালের সুপার বলেন, “ওঁকে ভর্তিই করা হয়নি হাসপাতালে।” বিনোদের আত্মীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি তুলতেই সুপার বেঁকে বসেন বলে অভিযোগ। বিক্ষোভের আঁচ পেয়ে হাসপাতাল সুপারকে নিরাপত্তাবলয় দিয়ে বাইরে বের করে নিয়ে যায় পুলিশ। বিনোদের পরিবারের অভিযোগ, ‘গুম করে দেওয়া হয়েছে বিনোদকে।’ প্রশাসনের একটা অংশের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন বিনোদের আত্মীয়রা। ইতিমধ্যেই ডিএম এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন বিনোদের বাবা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিনোদের এক আত্মীয় বলেন, “উধাও হওয়ার ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল সুপারের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ জানানো হবে।” এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও কথা বলতে চাননি।

পরিবারের তরফে দায়ের করা এফআইআর

আলিপুরদুয়ার কাণ্ডের সমস্ত টাটকা আপডেটের জন্য চোখ রাখুন দ্য ওয়ালএ।

আরও পড়ুন:

Breaking: ডিএম-এর বিরুদ্ধে খুনের হুমকির অভিযোগ দায়ের প্রহৃত বিনোদের বাবার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More