বর্ধমানে সেনা অফিসার পরিচয়ে সহবাস, বিয়ে, বেশ কয়েকবার গর্ভপাতের অভিযোগ তরুণীর

১,৫০৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: চাকরি পাওয়ার আশায় সেনা অফিসার পরিচয় দেওয়া এক যুবককে বিয়ে করেছিলেন বর্ধমান শহরের বিধানপল্লির এক তরুণী। কিন্তু চাকরি তো হয়নি, উলটে সহবাসের ফলে বেশ কয়েকবার গর্ভবতী হয়ে পড়েন তিনি। জোর করে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁদের সহবাসের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হমকিও দিয়েছে ওই যুবক। টাকার লোভে এই ঘটনায় নিজের মাও যুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন তরুণী। সাহস করে পুলিশের দ্বারস্ত হয়েছেন তিনি। দায়ের করেছেন লিখিত অভিযোগ।

তরুণী জানিয়েছেন, বছর চারেক আগে তাঁর বাবা ও মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তিনি একমাত্র সন্তান। তার পর থেকে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে বর্ধমান শহরের ইছলাবাদ ও খণ্ডঘোষ থানার গোলাহাটের দু’জনের পরিচয় হয়। গোলাহাটের বাসিন্দা নিজেকে সেনাবাহিনীর অফিসার বলে পরিচয় দেয়। ইছলাবাদের বাসিন্দা নিজেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সেক্রেটারি বলে পরিচয় দেয়। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলে ভাল সরকারি চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা।

জানা গিয়েছে, এরপর তরুণীকে চাকরির অছিলায় বেশ কয়েকবার বর্ধমান শহরের কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ডেকে পাঠায় তারা। সেখানে আরও কয়েকজন হাজির হত। তারাও নিজেদের উচ্চপদস্থ অফিসার বলে পরিচয় দিত। কিছুদিন পর তাঁর কাছ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, পাসপোর্ট মাপের ছবি ও ৪৮ হাজার টাকা নেয় তারা। তাঁকে কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে নেওয়া হয়। চাকরির প্রয়োজনেই এসব করা হচ্ছে বলে জানানো হয় তাঁকে।

সূত্রের খবর, এর মধ্যেই নিজেকে সেনা অফিসার পরিচয় দেওয়া যুবক তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তরুণীর মা বিয়েতে রাজি থাকায় গত বছরের জুন মাসে দু’জনের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানের কোনও ছবি নাকি তুলতে দেওয়া হয়নি। কারণ হিসেবে যুবক জানায় সেনা অফিসার হওয়ায় প্রকাশ্যে বিয়ে বা কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সে পারে না। তাই এই ব্যবস্থা।

তরুণী জানিয়েছেন, বিয়ের পর একটি লালবাতি লাগানো গাড়িতে করে তরুণীকে গোলাহাটের বাড়িতে নিয়ে যায় ওই যুবক। কিছুদিন পর তাঁকে বর্ধমান শহরে বিজয়নগর এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে নিয়ে আসে সে। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর চাকরি হয়ে যাবে বলে জানায় সে। স্বামীর সঙ্গে কিছুদিন কাটানোর পর তার আসল রূপ জানতে পারেন তরুণী। পুরো চক্রটি যে একটি ঠগ তা নিশ্চিত হন তিনি।

পুলিশকে তরুণী জানিয়েছেন, বেশ কয়েকবার তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে ফূর্তি করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে মারধর করা হয়। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি তরুণী তাঁর মাকে জানান। কিন্তু উল্টে মা তাঁকে স্বামীর যাবতীয় আবদার মেনে নেওয়ার কথা বলেন।

তরুণীর অভিযোগ, একদিন তিনি দেখেন সহবাসের ভিডিও জানলা দিয়ে রেকর্ডিং করছেন তাঁর মা। তরুণী কারণ জানতে চাওয়ায় মা তাঁকে জানান, প্রত্যেকটি রেকির্ডংয়ের জন্য তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়। শ্বশুরবাড়িতে কয়েকবার শ্বশুরও তরুণীর শ্লীলতাহানি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। খোঁজখবর নিয়ে তরুণী জানতে পেরেছেন তাঁর স্বামী বিবাহিত। তাঁর ছেলেও রয়েছে। স্বামীর বিরুদ্ধে নাকি একটি মামলাও রয়েছে। এসব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অশ্লীল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। যদিও তাতে দমেননি যুবতী। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে কিছুদিন আগে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপরেই থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। তদন্ত শুরু করেছে তারা। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি বলেই খবর। থানার এক অফিসার জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে নির্দিষ্ট ধারায় কেস রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তরুণীর গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More