আসানসোল স্টেশন চত্বরে প্রকাশ্যে মাদক সেবন কিশোরদের, ‘মুক্তাঙ্গন’ বন্ধ হওয়ায় ফিরেছে পুরনো জীবনে

‘মুক্তাঙ্গন’ আদপে একটি বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র ছিল। ট্রেন থেকে বালক-কিশোরদের উদ্ধার করে এখানে এনে রাখা হত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসানসোল স্টেশন চত্বরে বহু পুরনো দৃশ্য আবার ফিরে এসেছে। স্টেশন চত্বরে আবার কিশোরদের নেশা করতে দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের ফলে স্টেশনচত্বর ফাঁকা। নজরদারি নেই বললেই চলে। তাই এখন তারা নেশা করছে একেবারে প্রকাশ্যে। কাউকে ক্যামেরায় ছবি তুলতে দেখলে বেপরোয়া ভাবে ‘পোজ’ দিচ্ছে অনেকে। জীবনের আলো দেখার মুখে আচমকা অন্ধকার ঘনিয়ে আসায় অনেকে আবার হতাশ।

    আসানসোলের জনা কুড়ি-পঁচিশ কিশোরের আশ্রয়স্থল ছিল ‘মুক্তাঙ্গন’। এটি আদপে একটি বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র ছিল। ট্রেন থেকে বালক-কিশোরদের উদ্ধার করে এখানে এনে রাখা হত। তাদের খাওয়াদাওয়া করানোর পাশাপাশি পোশাক দেওয়া হত। লেখাপড়া শেখানো হত। মাদকদ্রব্য থেকে তাদের দূরে রাখা হত। ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেত বিপথে চলে যাওয়া বালক ও কিশোররা।

    এখন মুক্তাঙ্গন বন্ধ। লকডাউন শুরু হতে খাবার দেওয়াও বন্ধ হয়ে যায় বলে জানাচ্ছে এখানকার আবাসিকরা। তাই অনেকে আবার দ্রুত ফিরে গেছে তাদের পুরনো জীবনে। কিছু দিন আগেও মুক্তাঙ্গনের আবাসিক ছিল আকাশ কুমার। তার কথায়, “যত দিন মুক্তাঙ্গন ছিল তত দিন আমরা এখানে খাওয়াদাওয়া করতাম। ভালই ছিলাম। যবে থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে তবে থেকে আমাদের আর থাকার জায়গা নেই। সরকারও আমাদের দেখছে না।” তার কথায়, “দিদিমণিরা আমাদের বলে দিল যাদের বয়স ১৬ বছর পেরিয়ে গেছে তারা আর এখানে থাকতে পারবে না।”

    মুক্তাঙ্গনের প্রাক্তন পরামর্শদাতা সুমিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “স্কুল (মুক্তাঙ্গন) যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বাচ্চারা আবার স্টেশনেই ফিরে যাবে। অনেক কষ্ট করে ওদের যেখান থেকে সরানো হয়েছিল আবার ওরা সেখানে ফিরে যাবে। এটা হবেই। এটাই হচ্ছে। এখন লকডাউনের ফলে এই প্রবণতা বেড়ে গেছে। তবে মুক্তাঙ্গন যারা পরিচালনা করত এখন আর তারা নেই। এখন ওটা রেলওয়ে চাইল্ডলাইন নিয়ে নিয়েছে। এখন যা করার ওরাই করছে।”

    আসানসোল ডিভিশনের আরপিএফের কমান্ডার চন্দ্র মোহন বলেন, “মুক্তাঙ্গন নামে সংস্থাটির কাজ ছিল যেসব বাচ্চা ট্রেনে যাতায়াত করে তাদের উদ্ধার করা। বেশ কিছু দিন ধরে প্যাসেঞ্জার ট্রেন বন্ধ। এজন্য বাচ্চারা আসছিল না। ট্রেন চলাচল শুরু হলে আবার তারা কাজ শুরু করবে। তবে ওটা এখন চাইল্ডলাইন হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি ওই জায়গার সংস্কার করতে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More