বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ এনে বৈদ্যবাটিতে অনশনে বসলেন যুবতী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল শিক্ষক স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে হুগলির বৈদ্যবাটিতে অনশনে বসলেন যুবতী।

কয়েক মাসে আগে জলপাইগুড়িতে দেখা গিয়েছিল প্রেমিকাকে ফিরে পেতে প্রেমিকের অনশন। তারপর শেষমেশ অন্য পাত্রের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়া প্রেমিকাকে ফিরে পেয়েছিলেন ওই যুবক। কিন্তু হুগলির বৈদ্যবাটিতে ঘটল উল্টো ঘটনা। স্বামী-সহ শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পোস্টার লাগিয়ে অনশনে বসলেন মণিদীপা সাধুখাঁ নামের ওই যুবতী। সঙ্গে তাঁর বাবাও।

শনিবার সকাল দশটা থেকে বৈদ্যবাটি এনসিএম রোডে শ্বশুর বাড়ির গলির মুখে রাস্তার উপর অনশনে বসেছেন মণিদীপা। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক মাস হল তাঁর বিয়ে হয়েছে বৈদ্যবাটির বাসিন্দা, পেশায় স্কুল শিক্ষক তন্ময় সাধুখাঁর সঙ্গে। মণিদীপার অভিযোগ, ফুলশয্যার তিন দিন পর থেকেই শুরু হয় অত্যাচার। তাঁর অভিযোগ, তাঁর স্বামী তাঁকে একটি লিকুইড ওষুধ খাওয়ায়। তারপর থেকেই তাঁর পা ফুলতে শুরু করে। উঠতে শুরু করে মাথার চুল। অনশনে বসা যুবতীর বাবা জানিয়েছেন, পণের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোক। সেটা না দিতে পারাতেই এই অত্যাচার চালানো হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে শেওড়াফুলি ফাঁড়ির পুলিশ। শ্বশুরবাড়ি তালাবন্ধ। মনে করা হচ্ছে, বিষয়টি আন্দাজ করে আগেই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছেন তাঁরা। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে ওই বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকত। মণিদীপার বাবার দাবি, কয়েকদিন আগে মেয়ে অসুস্থ পড়েছিল। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোক ডাক্তার পর্যন্ত ডাকেনি। খবর পেয়ে তিনি ছুটে আসেন মগরা থেকে। অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন চুঁচুড়া-মগরা ব্লক হাসপাতালে।

ওই যুবতী অনশন স্থলে একটি লিফলেট টাঙিয়েছেন। তাতে লিখেছেন, তিনি এর আগে শ্রীরামপুর মহিলা থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। শ্বশুরবাড়ির লোককে থানা থেকে ডেকেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা যাননি। পুলিশ চেষ্টা করছে অনশন থেকে বিরত করে বিষয়টি আইনি পদ্ধতিতে সমাধান করার। কিন্তু বেলা একটা পর্যন্ত খবর, অনশন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় ওই যুবতী। দাবি একটাই, শান্তিতে সংসার করতে দিতে হবে।

Comments are closed.