কোলাঘাটে স্বামীকে খুন করে পুলিশের সাহায্যে দেহ সরানোর অভিযোগ, অভিযুক্তকে মারধর, কাটা হল চুল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে খুন করে কড়িকাঠে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁরই স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। অভিযুক্ত মহিলাকে বেঁধে মারধর করারও অভিযোগ উঠেছে গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। তাঁর মাথার চুল কেটে একটি মন্দিরের মধ্যে ঢুকিয়ে গ্রিলে তালা বন্ধ করে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। শুধু তাই নয়, মৃতের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে মারধর করেন তাঁরা।

তাঁদের অভিযোগ, আত্মহত্যা বলে পুলিশকে খবর দিয়ে রাতারাতি দেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই অভিযোগে পুলিশকে ঘিরে ধরে তাঁরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান।

কোলাঘাট থানা এলাকার কাউরচণ্ডী গ্রামের ওই মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত দাস। তাঁর বয়স আটত্রিশ বছর। তাঁর একটি ছেলে আছে। তাঁর স্ত্রী অভিযুক্ত সুপর্ণা দাস দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী মদ খেয়ে মত্ত অবস্থায় এসে প্রায় সময় অশান্তি করতেন। তাঁকে মারধর করতেন। বুধবার রাতেও তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁর স্বামী আত্মহত্যা করেন। রাতেই প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে তিনি তাঁদের ডেকেছেন কিন্তু কেউ আসেননি।

আটকে রাখা হয়েছে

এলাকার লোকজন অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তাঁদের দাবি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর থেকে দু’লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। স্বামীকে খুন করে তিনি সেই টাকা ফাঁকি দিতে চাইছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। লকডাউন মানা দূরের কথা, এই জায়গায় সামাজিক দূরত্বও শিকেয় ওঠে।

এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তি শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তিনি ফুল ও সবজির ব্যবসা করতেন। তবে তাঁর স্ত্রীর জন্য প্রায়ই সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। বেশ কয়েক বার পাড়ার লোক, প্রতিবেশী এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য বিজেন সামন্ত মীমাংসা করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও কী করে এমন হল তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না।

পুলিশকে ডাকলে এমনিতে আসে না তবে এ ক্ষেত্রে রাতারাতি কী করে দেহ ‘লোপাট’ হয়ে গেল সে প্রশ্নও তাঁরা তুলেছেন। কেন দেহ নিয়ে যাওয়ার আগে তাঁদের জানানো হল না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিবেশীরা জানান যে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর কথা তাঁরা জানতে পেরেছিলেন। সকালে পুলিশ ডেকে তাঁরা হেস্তনেস্ত করবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন। এখন তাঁরা বলছেন, দেহ গ্রামে আনতে হবে। তার পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করুক।

কয়েক ঘণ্টা এই পরিস্থিতি চলার পরে পুলিশ লাঠি চার্জ করে বিক্ষোভ হঠিয়ে দেয়। অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেহ ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার পরে নিয়মমাফিক পদক্ষেপ করা হবে। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More