বৌমার মেয়ে হওয়াতেই শিশুপুত্র চুরি করেছিল সুলতানা, মেদিনীপুর কাণ্ডে চমক

চোর ধরা পড়লেও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কোনও শিশুর ছুটি হওয়ার পর সেই ছুটির কাগজ দেখানোর পরেই হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার ছাড়পত্র পাওয়া যায়। তাহলে কী ভাবে সবার চোখের সামনে দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল সুলতানা। এই ঘটনার সঙ্গে হাসপাতালের আর কেউ জড়িত কিনা সেই তদন্ত করছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে শনাক্ত করা হয়েছিল চোরকে। মেদিনীপুর হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাত চুরির অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে সুলতানা বিবিকে ( ৫০ )। শহরের সর্বদ্দি মহল্লার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সুলতানাকে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ ও চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের আর্জি নিয়ে তাকে আজ আদালতে তোলা হবে। জানা গিয়েছে, বৌমার বারবার মেয়ে হওয়াতেই নাকি শিশুপুত্র চুরি করেছিল সুলতানা।

    পুলিশ সূত্রে খবর, দু’দিন আগে মেদিনীপুর হাসপাতালেই মেয়ের জন্ম দেন সুলতানার বৌমা। হাসপাতাল থেকে বৌমাকে বাড়ি নিয়ে চলে গেলেও ওয়ার্ডে ঢোকার কার্ড তার কাছে ছিল। পরপর দুই নাতনির জন্ম হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল সুলতানা। শনিবার রাতে সে ফের হাসপাতালে আসে। খবর পায় সেদিন রাতেই এক শিশুপুত্রের জন্ম হয়েছে হাসপাতালে।

    জানা গিয়েছে, শনিবার রাত থেকেই সুযোগ খুঁজছিল সুলতানা। রবিবার সকালে শিশুটির মা ঘুমিয়ে পড়লে সে সুযোগকে কাজে লাগায়। শিশুটিকে চাদরের মধ্যে লুকিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় সে। তারপরেই শিশু চুরির খবর জানাজানি হতে হুলুস্থুল পড়ে যায় হাসপাতালে।

    শিশু চুরির তদন্তে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয় হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ। দেখা যায় ঠিক যে সময়ে সদ্যোজাতর দিদা ও ঠাকুমা বাইরে ছিলেন তখনই এক মহিলা তোয়ালে ঢাকা দিয়ে কোলে করে একটি বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাবের মূল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এরপর খোঁজ শুরু হয় ওই মহিলার। খোঁজ করতে গিয়েই সুলতানাকে চিহ্নিত করে পুলিশ।

    চোর ধরা পড়লেও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কোনও শিশুর ছুটি হওয়ার পর সেই ছুটির কাগজ দেখানোর পরেই হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার ছাড়পত্র পাওয়া যায়। তাহলে কী ভাবে সবার চোখের সামনে দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল সুলতানা। এই ঘটনার সঙ্গে হাসপাতালের আর কেউ জড়িত কিনা সেই তদন্ত করছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More