রবিবার, আগস্ট ১৮

সব্যসাচীকে কি বহিষ্কারের পথে তৃণমূল? রবিবার কাউন্সিলারদের মিটিং ডাকার নির্দেশ মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দলের কোর কমিটির মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে ‘গদ্দার’ বলছেন, সেই মুকুল রায়কেই বাড়িতে ডেকে নিয়ে বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাটের তৃণমূল বিধায়ক লুচি-আলুর দম খাওয়াচ্ছেন! হতে পারে? মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়কে যাঁরা খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন, রাজনীতিতে দিদি বরাবরই আপসহীন। সেটা তাঁর সিপিএম বিরোধিতার প্রশ্নেই হোক, বা কাউকে পছন্দ-অপছন্দের প্রশ্নে। সব্যসাচী যে মুকুলের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগে রয়েছেন, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোভাবেই জানতেন। কিন্তু সেই দহরম-মহরম কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে তৃণমূলের অনেকেই মনে করছেন, এ বার জল মাথার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে।

মমতা ঘনিষ্ঠদের আশঙ্কা, সব্যসাচীকে সামনে রেখে মুকুল রায় তৃণমূলে অস্বস্তি বাড়াতে চাইছেন। হতে পারে সব্যসাচীকে তৃণমূলে রেখেই একটা অন্তর্ঘাত করানোর চেষ্টা করা হতে পারে লোকসভা ভোটে, বিশেষ করে বিধাননগর, রাজারহাট এলাকায় ও বারাসত লোকসভা কেন্দ্রে। অথবা সব্যসাচী সরাসরি বিজেপিতে যোগও দিয়ে দিতে পারেন। এই অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন সেরে ফিরে এসেই তিনি এই বৈঠকে বসেন এবং জানিয়ে দেন রবিবারই শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে বিকেল ৩টেয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধাননগরের সব কাউন্সিলারদের নিয়ে যেন মিটিং ডাকা হয়। এর বাইরে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, কাল সব কাউন্সিলারদের এক করে সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে বিধাননগরের মেয়রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

শুক্রবার সব্যসাচীর সল্টলেকের বাড়ি থেকে বেরনোর সময় মুকুল রায়কে প্রশ্ন করা হলে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তিনি বলেছিলেন, “এ বাড়িতে আমি দশ দিন আগে একবার এসেছি। দু’মাস আগেও এসেছি। ওঁর সঙ্গে আমার এরকমই দাদা ভাইয়ের সম্পর্ক। ওঁর বউয়ের সঙ্গেও আমার সে রকম সম্পর্ক। খিদে পেলেই চলে আসি এখানে।” তবে নিজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সব্যসাচীকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা, এ প্রশ্নের উত্তরে একটা কথাও বলতে শোনা যায়নি এককালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত মুকুল রায়কে।

সব্যসাচী দত্তও মুকুল রায়ের বাড়িতে আসা নিয়ে রাজনৈতিক কোনও রং লাগাননি। বরং এটা নিছকই এক দাদার তার ভাইয়ের বাড়িতে আসা, এমনটাই বলেছিলেন তিনি। বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে এই তৃণমূল নেতা বলেন, “ও বিষয়ে আমিও কিছু বলিনি, মুকুল দাও না।” কিন্তু দুজনে যতই এই ঘটনাকে নিছক আড্ডা বলুন, এর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে সব্যসাচী-মুকুল সাক্ষাতের পর পরই নাকি যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। একটি সূত্রের মতে, ববি অভিষেককেও জানিয়েছেন, সব্যসাচী-মুকুল যোগাযোগের ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই।

এখন দেখার রবিবার কাউন্সিলারদের বৈঠক থেকে কী নির্দেশ দেন দলনেত্রী।

আরও পড়ুন

মুকুল-সব্যসাচী বৈঠক, প্রশ্নের মুখে ববি বললেন, ‘শুনছি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, তার বাইরে জানি না’

Comments are closed.