রবিবার, অক্টোবর ২০

দিঘার ঢেউয়ে কেন কাদা: বৃষ্টি নেই, নদীতে স্রোত নেই, তার জন্য কী হচ্ছে?

দেবার্ক ভট্টাচার্য্য

২৪ ঘণ্টা আগেও এমনটা ছিল না। বুধবার দেদার স্নান করেছেন দিঘায় আসা পর্যটকরা। অথচ বৃহস্পতিবার সমুদ্রে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ। কোথায় দিঘার নীল জল। বদলে এ তো কালো কাদা। জলে পা দিতেই সেই কাদা এসে লাগছে গায়ে। জামাকাপড় হয়ে যাচ্ছে নোংরা। আর তাই বৃহস্পতিবার জলেই নামেননি বেশিরভাগ পর্যটক। মন খারাপ করেই ফিরে গিয়েছেন হোটেলের ঘরে।

কিন্তু কেন হঠাৎ রং বদলে গেল? নীল থেকে কালো হয়ে গেল দিঘার সমুদ্রের জল?

ভৌগোলিক ব্যাখ্যায় এর এক নয়, একাধিক কারণ হতে পারে।

১) জলের রং বদলে যাওয়ার সবথেকে বড় কারণ হতে পারে সেডিমেন্ট লোড বেড়ে যাওয়া। সাধারণত জলের সঙ্গে যে নুড়ি, বালি, কাদা আসে সেগুলিকে সেডিমেন্ট বলে। সেগুলি সমুদ্রের তলদেশে থিতু হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় গভীর সমুদ্রে। অর্থাৎ তটভূমি থেকে বেশ খানিকটা দূরে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেডিমেন্ট বা পলি-কাদার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তা সমুদ্রের তলদেশে থিতু হচ্ছে, কিন্তু তা তটভূমির কাছে এসে। আর তাই বদলে যাচ্ছে জলের রং। বেশি কাদা মিশে যাওয়ায় জলের রং হয়ে যাচ্ছে কালো।

২) দিঘার কাছে সূবর্ণরেখা নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এই বাঁধ দেওয়ার ফলে পলির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এই পলি এসে জমা হচ্ছে উপকূলের কাছে। ফলে তটভূমির কাছে জলের রং কালো হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই বাঁধ দেওয়া হয়েছে। আর জলের রংয়ের পরিবর্তনও হঠাৎ হয়েছে। আর তাই এই কারণকেই সবথেকে যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

৩) সমুদ্রের তটভূমিতে সেডিমেন্ট লোড তো বেড়েছেই, কিন্তু তার সঙ্গে জলের তলায় সেই সেডিমেন্টের জমা হওয়ার পরিমাণ কমেছে। আগে গভীর সমুদ্রে এই সেডিমেন্ট জমা হতো বলেই তা তটভূমিতে আসত না। কিন্তু কোনও কারণে তা গভীর সমুদ্রে থিতু হচ্ছে না। ফলে তটভূমির কাছে চলে আসছে। ফলে জলের রংয়ে বদল হচ্ছে।

৪) এর সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কও যুক্ত থাকতে পারে। এ বছর উত্তরবঙ্গে ঠিক যত বেশি বৃষ্টি হচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ঠিক ততটাই। আর এই বৃষ্টির ঘাটতির ফলে দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলিতে জলের পরিমাণ কম হচ্ছে। ফলে বহন ক্ষমতা কম হচ্ছে। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের দিকে বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষয়জাত পলির পরিমাণ কমছে না। কিন্তু এখানকার কম বর্ষণের কারণে নদীর স্রোত ও বহন ক্ষমতা কম হওয়ায় নদী যেখানে সমুদ্রে মিশছে, সেখানেই নদীবাহিত পলি জমা হয়ে যাচ্ছে। ফলে তা আর গভীর সমুদ্রে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে তটভূমির কাছেই জলের রং বদলে যাচ্ছে।

সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। কারণ তখন নদীবাহিত পলি সমুদ্রের ভেতরের দিকে জমা হওয়ার প্রবণতা বাড়বে। ফলে তটভূমির জল আবার আগের নীল রংয়েই ফিরে যাবে।

Comments are closed.