সোমবার, এপ্রিল ২২

কী এমন হল, সাত সকালেই রিপোল-এর দাবি জানালেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সক্কাল সক্কাল অন্য সুর কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেসের গলায়।

ভোট মানেই তিনি সকাল থেকে বেরিয়ে বুথে বুথে ঘুরবেন। অতীতে তাঁকে দেখা গিয়েছে প্রিসাইডিং অফিসারকে ধমকাতে। তাঁকে দেখা গিয়েছে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারকে কষিয়ে থাপ্পড় মারতে। কী তাঁর প্রতাপ! অন্য কেউ মাথাই তুলতে পারত না। আর সেই কোচবিহারেই কি না ভোট শুরুর দু’ঘণ্টার মধ্যে জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ একাধিক বুথে রিপোল-এর দাবি তুললেন। অভিযোগ করলেন, ইভিএম বিকল হয়ে যাওয়ার।

নাটাবাড়িতে একটি বুথে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতেও জড়িয়ে পড়েন  রবি ঘোষ। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয়বাহিনী বুথের ভিতরে ঢুকে মাতব্বরি করছে।” এর আগে পঞ্চায়েত ভোটের সময় তৃণমূল বনাম তৃণমূল মারামারি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়েছিল। সেই সময় মাদারের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রার্থী দাঁড় করিয়ে সংগঠনকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন যিনি, সেই নিশীথ অধিকারী এ বার বিজেপি-র প্রার্থী। রবিবাবুর অভিযোগ শুনে অল্প কথার নিশীথ বলেন, “খেলা তো এখনও শুরুই হয়নি।”

যদিও দিনহাটা সহ কোচবিহারের একাধিক জায়গায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। নাটাবাড়ি, মাথাভাঙায় বিজেপি-র বুথ ক্যাম্প ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের বিরুদ্ধে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, একাধিক বুথে তাঁদের এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দিয়েছে তৃণমূলের অ্যাকশন স্কোয়াড। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের যে বাহিনী ভোট করানোর জন্য স্পেশাল ট্রেনিংপ্রাপ্ত, তারা ততটা সুবিধে করতে পারছে না।

সকাল ন’টা পর্যন্ত যা হিসেব তাতে, কোচবিহারে ভোট পড়েছে ১৭.৮৯ শতাংশ এবং কোচবিহারে ভোট পড়েছে ১৮.৩৫ শতাংশ। পর্যবেক্ষকদের মতে, পঞ্চায়েতে প্রথম তিন ঘণ্টায় যে ছবি দেখা গিয়েছিল, সেই তুলনায় প্রথম দফার ভোটের সকালটা অনেকটাই শান্ত। সকাল দশটা পর্যন্ত ভোটের যা ছবি উঠে এসেছে কোচবিহার এবং আলিপুয়ারদুয়ার থেকে, তাতে সাধারণ ভোটারদের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। প্রথম ভোটার থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা—সকলেই ভোট শুরুর অনেকটা আগে থেকেই দাঁড়িয়ে পড়েন লাইনে। এখন দেখার বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোট পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় নাকি একই রকম থাকে দুই কেন্দ্রের ভোটের ছবি।

Shares

Comments are closed.