ট্রেন না চললে লোকে অফিস আসবেন কী করে, কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, ৮ জুন থেকে রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ১০০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করা যাবে। তারপরই প্রশ্ন ওঠে ট্রেন না চললে জেলা থেকে লোকজন অফিস কাছারিতে যাবেন কী ভাবে? তা ছাড়া মেট্রো চলারও কোনও সম্ভাবনা নেই। কলকাতার লোকজনই বা যাতায়াত করবেন কী করে?

    এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত কিছু বলেননি। শুধু বলেছেন, “দেখি কেন্দ্রীয় সরকার কী বলে। তারপর দেখা যাবে!” সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়, কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা– যেখানে মানুষ চাকরি করতে যাবেন সেখানে গাদা গাদা কন্টেইনমেন্ট জোন। এমনিতেই কন্টেইনমেন্ট জোনে সব কিছু নিষিদ্ধ। তাহলে সরকারি, বেসরকারি অফিস খুলবে কী করে? এ নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, “যাঁরা অফিস খুলবেন তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যাপারটা টেক কেয়ার করে নেবেন।”

    বিরোধীদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দায় ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছেন। কোনও যুক্তিসঙ্গত দিশা দেননি। শুধু গোলগাল কথা বলেছেন। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষ হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশনে নেমে কর্মক্ষেত্রে যান। কেন্দ্রীয় সরকার লোকাল ট্রেনের ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তার আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা জাতীয় বিপর্যয় আইনকে লঙ্ঘন করেছেন!” তিনি আরও বলেন, “এবার যদি কর্মীরা অফিস না যেতে পারেন, আর কোম্পানিগুলো বলে কাজ করতে হবে না তার দায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিতে হবে।” সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “অফিস কাছারি খুলতে তো অবশ্যই হবে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে পরীক্ষার গিনিপিগ করা হচ্ছে কেন? ওগুলো খোলার আগে নেতা-মন্ত্রীদের বিধানসভা তো খুলুন, মাননীয়া।”

    নৈহাটির বাসিন্দা অর্ণব রায় ডালহৌসির একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস ফার্মে চাকরি করেন। তিনি বলেন, “আমি তো কাজে যেতে চাই। কিন্তু যাব কী ভাবে? যাওয়ার ব্যবস্থা না করে অফিস খোলার ঘোষণা মোটেই বিবেচকের কাজ হল না।” একই বক্তব্য হুগলির মানকুণ্ডুর বাসিন্দা সুদীপ্ত ঘোষের। তিনি বলেন, “আমার অফিস সল্টলেক সেক্টর ফাইভে। বাসে করে অফিস যেতে হলেও আমাকে বালি পৌঁছতে হবে। ট্রেন ছাড়া উপায় নেই! কেন্দ্রের ঘোষণার আগেই কেন দিদি এই ঘোষণা করলেন বুঝলাম না।”

    ৩১ মে শেষ হচ্ছে চতুর্থ দফার লকডাউন। তারপর কী ভাবে সব চলবে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত জানাবে। গতকাল কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা সব রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। অনেকের মতে সেখানে পরবর্তী কী হবে তার ইঙ্গিত পেয়েই হয়তো নবান্ন হয়তো এই ঘোষণা করেছে। তবে সাধারণ চাকরিজীবীদের মনে একটাই প্রশ্ন, অফিস যাবেন কী ভাবে? উপায় কী?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More