বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

রসগোল্লার লড়াইয়ে ফের জয় বাংলার, ওড়িশার দাবি উড়িয়ে দিল জিআই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রসগোল্লা কার? এ নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছিলই। বাংলা জিআই ট্যাগ পেয়ে যাওয়ার পরেও ওড়িশা দাবি করেছিল, এই মিষ্টির উৎসভূমি উৎকলে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই দাবি খারিজ করে দিল চেন্নাইয়ে অবস্থিত  জিওগ্র্যাফিকাল ইন্ডিকেটরের সদর দফতর।

জিআই-এর তরফ থেকে ওড়িশা সরকারকে ৩০ দিনের মধ্যে নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও ভুবনেশ্বর থেকে চেন্নাইতে নথি না যাওয়ায়, ওড়িশার দাবি খারিজ করে দেওয়া হল এদিন। জানিয়ে দেওয়া হল রসগোল্লা বাংলারই। ২০১৭ সালে বাংলার তরফে রসগোল্লায় জিআই ট্যাগের জন্য আবেদন করা হয়। তারপর আবেদন করে ওড়িশাও। সেই আবেদন খতিয়ে দেখে বাংলাকেই রসগোল্লার ট্যাগ দেয় জিআই। ফের আবেদন করে ওড়িশা। কিন্তু তাও এদিন খারিজ হয়ে গেল।

ওড়িশা সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, দ্বাদশ শতক থেকে চলে আসা জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি থেকে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনের সময় থেকেই রসগোল্লা বিতরণের প্রথা চালু রয়েছে। কিন্তু তার সপক্ষে কোনও লিখিত প্রমাণ না দিতে পারায় জিআই ট্যাগ প্রাপ্তি থেকে সে যাত্রায় ওড়িশা বঞ্চিত হয়। এই ট্যাগের জন্য ওড়িশার ক্ষুদ্র শিল্প কর্পোরেশনের তরফ থেকে জানানো হয়, অন্য জায়গার রসগোল্লার থেকে গঠনগত দিক থেকে একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির ওড়িশার রসগোল্লা রসালো। নরম এবং মুখে দিলেই গলে যায়। অন্যদিকে বাংলার প্রতিনিধিত্বমূলক কলকাতার রসগোল্লার খ্যাতি তার স্পঞ্জের মত চরিত্রের জন্য।

বাংলার রসগোল্লা জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর আরও একাধিক মিষ্টিটে জিআই পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই তদ্বির শুরু করেছে নবান্ন। এর মধ্যে বর্ধমানের সীতাভোগ ও মিহিদানা, শক্তিগড়ের ল্যাংচা ইতিমধ্যেই ট্যাগ পেয়ে গিয়েছে। হুগলির প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, জনাইয়ের মনোহরার জিআই টযাগ পেতেও ঝাঁপাবে সরকার। এদিন রসগোল্লার জটিলতা কেটে যাওয়ার পর সে ব্যাপারে সরকার আরও তৎপর হবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ – এ প্রকাশিত গল্প

Comments are closed.