বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

যতই কেন্দ্রীয়বাহিনী আনো, জিতবই, জিতবই, জিতবই: শ্রীরামপুরে মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার হাওড়া ও হুগলির তিন সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও রাখঢাক না রেখে বলে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপি-র হয়ে ভোট করাচ্ছে। বুধবার শ্রীরামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী চ্যালেঞ্জের সুরে জানিয়ে দিলেন, “যতই দফা বাড়াও, যতই সেন্ট্রাল ফোর্স পাঠাও, পুরো ভারত সরকার নিয়ে ঘুরে বেড়াও, বাংলায় আমরা জিতবই-জিতবই-জিতবই।”

মঙ্গলবারের জনসভা থেকে মমতা বলেছিলেন, মালদহ এবং ইটাহার থেকে খবর এসেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী লাইনে দাঁড়িয়ে বলছে বিজেপি-কে ভোট দিতে। তারপর রাজনৈতিকমহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মমতা জানিয়ে দিলেন , তিনি বিজেপি-র চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। এ দিনের সভা থেকে পাল্টা চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে।

ইতিমধ্যেই বাংলায় এসে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কটাক্ষের সুরে বলে গিয়েছেন, “রিগিং করতে পারছেন না বলে দিদি ভয় পাচ্ছেন।” মঙ্গলবার তার জবাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার কল্যাণের সমর্থনে জনসভা থেকে দিদি বলেন, “ভোটটা ফোর্স দেবে না। ভোটটা দেবে মানুষ। ওরা বুঝতে পারবে।” দলীয় কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মমতা এ দিন বলেন, “যে দশটা আসনে ভোট হয়েছে, সবকটাতে জিতব। ওরা গোল্লা পাবে। রসগোল্লা।”

কেন্দ্রীয়বাহিনী নিয়ে মঙ্গলবারের মন্তব্যের পর, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাহলে কি তৃণমূল নিজস্ব মেশিনারি দিয়ে ভোট করাতে পারছে না বলেই এই কথা? যেটা হয়েছিল পঞ্চায়েতে। নিন্দুকদের অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন, পঞ্চায়েতের মতো হাত খুলে খেলতে পারছে না বলেই তৃণমূলনেত্রী এই কথা বলছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিদি হয়তো বুঝতে পেরেছেন, এতে দলীয় কর্মীদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে। কারণ এখনও ৩২টি কেন্দ্রের ভোট বাকি। তাই হয়তো ভোকাল টনিক দিতেই এ দিন বাহিনী নিয়ে চ্যালেঞ্জের সুরে এই কথা বললেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিনও নোটবন্দি, মূল্যবৃদ্ধি- সহ একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ শানান। বিজেপি-র বিরুদ্ধে ফের একবার বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন মমতা।

বিজেপি-র এক নেতা অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “দিদি তো বটেই, তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরাও বুঝতে পারছেন, এ বার খেলা ঘুরবেই। তাই কর্মীদের চাঙ্গা করতেই দিদি এখন এ সব বলছেন। তবে ২৩ মে বিকেলের পর দুধ কা দুধ, পানি কা পানি সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

Comments are closed.