বৃহস্পতিবার, মে ২৩

প্রোডাক্ট আমাদের একটাই, নেত্রীর ছবি: অভিষেক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরেই বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন ভাটপাড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং। তারপর থেকে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল, এ বার তাহলে ব্যারাকপুর আসন কী হবে? জিততে পারবেন কি দীনেশ ত্রিবেদী? তৃণমূল কি সত্যিই চাপে পড়ে গেল?

যুব তৃণমূল সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও দাবি করলেন, ভোটের পর অর্জুনের লেজও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এ দিন অভিষেককে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, অর্জুন সিং-কে হিন্দিভাষী সেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর চলে যাওয়ায় কি হিন্দিভাষী মানুষের মধ্যে কোনও প্রভাব ফেলবে? উত্তরে অভিষেক বলেন, “কাকে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনার প্রোডাক্ট ভাল হলে আপনাকে এ দিক ও দিক ছুটতে হবে না। সংগঠক পাল্টায়। নেত্রীর একটাই ছবি। প্রোডাক্ট আমাদের একটাই। সেই প্রোডাক্টের বেসিসেই আমরা মানুষের কাছে যাই।”

এ দিন অভিষেক খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অর্জুনের দিকে। বলেন, “অর্জুন সিং কত বড় নেতা দেখব। ক্ষমতা থাকলে ব্যারাকপুর সিটে দাঁড়াক। দু’লক্ষ ভোটে জিতবেন দীনেশ ত্রিবেদী। একটা ভোট কম হলে আমায় বলবেন।” গত লোকসভা ভোটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের এ বারের তৃণমূল প্রার্থী বলেন, “২০১৪-তেও ভাটপাড়ায় আমরা পাঁচ হাজার ভোটে হেরেছিলাম। কিন্তু দীনেশ ত্রিবেদী ২ লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন।”

অর্জুনকে যে বিজেপি ব্যারাকপুরে দাঁড় করাবে, তা এক রকম নিশ্চিত। তিনি শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের নেতা। ৯৯-এর ভোটে তৃণমূল-বিজেপি জোট প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যারাকপুরে দাঁড় করিয়েছিলেন অর্জুনকে। সে বার সিপিএমের তাবড় নেতা তড়িৎবরণ তোপদারের কাছে  মাত্র চল্লিশ হাজার ভোটে হেরেছিলেন অর্জুন। তারপর থেকে যত সময় এগিয়েছে, ততই প্রভাব বেড়েছে অর্জুনের। ২০০১ থেকে টানা চারবার ভাটপাড়া বিধানসভা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন তিনি। উপনির্বাচনে নিজের শ্যালককেও জিতিয়ে এনেছেন নোয়াপাড়া থেকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, শাসক দলের কাছে বড় ধাক্কা অর্জুনের চলে যাওয়া। কিন্তু মানছে না তৃণমূল। শাসক দলের বক্তব্য, জোড়াফুল প্রতীক আর মমতার ছবিটাই চাবিকাঠি।

যদিও এ দিনের অভিষেকর এই মন্তব্য শুনে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। রাজ্য বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতার কথায়, “বোঝাই যাচ্ছে অর্জুনের বিজেপি-তে আসা তৃণমূলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। না হলে কেউ নিজের পিসিকে প্রোডাক্ট বলেন!”

Shares

Comments are closed.