বৃহস্পতিবার, মে ২৩

এ ভাবে জোট হয় নাকি! বামেদের হুঁশিয়ারি মান্নানের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে রবিবার। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি-ও তাদের ঘর গোছানোর কাজ চালাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকও সেরে ফেলেছেন মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাংলায় বাম-কংগ্রেস জোটের জট খুলল না। সেই সঙ্গে বামেদের হুঁশিয়ারি দিয়ে কংগ্রেসের প্রবীন নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান স্পষ্ট জানালেন, “এ ভাবে জোট হয় নাকি! এখন শরিক দল দেখাচ্ছে। কী আছে ফরওয়ার্ড ব্লকের! কী আছে আরএসপি-র।”

চাঁপদানির বিধায়ক আরও বলেন, “জোট করতে হলে তৃণমূলস্তর থেকে সার্বিক জোট করা দরকার। পাশাপাশি আসনে ওরা (বামেরা) একটা লড়বে, আমরা একটায় লড়ব।” যদিও বর্ষীয়ান এক কংগ্রেস নেতা যে এখনও জোটের ব্যাপারে আশাবাদী তাও জানিয়েছেন। তবে নাম না করে কটাক্ষ করেছেন সিপিএমের দুই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবীন দেব এবং মৃদুল দে-কেও।

রবীন এবং মৃদুলকেই আলিমুদ্দিন দায়িত্ব দিয়েছিল কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য। এ দিন মান্নান বলেন, “প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ধৈর্যের সঙ্গে আলোচনা করছেন। ওদের যাঁদের সঙ্গে আলোচনা করছেন সোমেন মিত্র, তাঁরা প্রদেশ সভাপতির রাজনৈতিক স্টেটাসের ধারে কাছে আসেন না। আমাদের জেলা নেতাদের স্তরের নেতা তাঁরা। তবু আলোচনা করছেন যাতে জোটটা হয়।”

প্রাথমিকভাবে জোটে জট পেকেছিল রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদ নিয়ে। সিপিএম নিজেদের জেতা দুটি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। কংগ্রেসকে বলেছিল, যার যেটা জেতা সে সেটায় প্রার্থী দিক। প্রথমে সে ব্যাপারে বিধানভবন গড়রাজি হলেও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সেই জট কাটিয়ে দেন। কিন্তু এখন জট পেকেছে শরিকদের আসন নিয়ে।

ইতিমধ্যেই কংগ্রেস দাবি করেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট এবং পুরুলিয়া আসন তাদের দিতে হবে। কিন্তু সেখানে সিপিএমের হাত বাঁধা। কারণ ওই আসন দুটি শরিকদের কোটার। পুরুলিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক আর বসিরহাট সিপিআই। পর্যবেক্ষকদের মতে, সিপিএমের অবস্থা সবচেয়ে সঙ্গিন। না পারছে শরিকদের চটাতে, না পারছে কংগ্রেসকে।

বৃহস্পতিবারও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বামেদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে খুব একটা আশার কথা শোনাননি ‘ছোড়দা।’ তিনি বলেন, “ওরা এখন ভোটের শতাংশ দেখাচ্ছে। আমরা বলেছি কটা সিট দেবেন জানান। তারপর আলোচনা হবে।”

যদিও অনেকের মতে, এখন দর কষাকষি চলছে ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটা জায়গায় রফা হবে। কিন্তু সেটা কবে? সব দল ওয়ার্ম আপ শুরু করে দিয়েছে। দেওয়াল লেখার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়। প্রার্থী না হলেও প্রতীক আঁকতে শুরু করেছে বিজেপি। কিন্তু বাম বা কংগ্রেসকর্মীরা সেটাতেও নামতে পারছেন না। বোঝাই যাচ্ছে না কোথায় কাস্তে-হাতুড়ি-তারা আঁকতে হবে আর কোথায় হাত!

Shares

Comments are closed.