মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

শোভনের বিজেপি ইনিংস কি শুরুতেই শেষ? ‘চরম অপমানিত হচ্ছি’ অভিযোগ বৈশাখীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবে দু’সপ্তাহ হয়েছে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর পরম বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে গেরুয়া দল ছাড়ার হুমকি দিয়ে দিলেন বৈশাখী। তাঁর অভিযোগ, অনেক কিছু বিষয়ে তাঁদের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। চরম অপমানিত হতে হচ্ছে বিজেপি-তে। তাই যদি হয়, তা হলে পুরনো দল মন্দ কী ছিল!

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ১৪ অগস্ট বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন শোভন-বৈশাখী। তখন ছিল শুক্লপক্ষ। দিনটাও ছিল বুধবার। তাঁদের ঘনিষ্ঠরা বলেন, ইদানীং তাঁরা দু’জনেই জ্যোতিষীর পরামর্শ মেনে চলেন। হয়তো খনার বচন মেনে বুধেই পা দিয়েছিলেন গেরুয়া দলে। কিন্তু তা বললে হবে কী! গ্রহ-তারা সংযোগ হয়তো সে দিন ভাল ছিল না। কেন না শোভনের যোগ দেওয়ার মুহূর্ত থেকেই ঘটতে থাকে একের পর এক বিপত্তি। তাঁরা বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার প্রাক মুহূর্তে নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপি সদর দফতরে সে দিন রবাহূতের মতো পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা শোভনের প্রাক্তন বান্ধবী দেবশ্রী রায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভূত দেখার মতই দেবশ্রীকে যেন দেখেন শোভন-বৈশাখী। তার পর তাঁরা বেঁকে বসেন, দেবশ্রী বিজেপি-তে যোগ দিলে তাঁরা আর যোগ দেবেন না। শেষ পর্যন্ত দেবশ্রীকে প্যাভেলিয়নে বসিয়ে রেখে শোভন বৈশাখীকে বিজেপি-তে সামিল করান দলের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহ।
সেই শুরু!

আরও পড়ুন- বৈশাখী গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেই কি বিজেপি ছাড়তে চান শোভন? নাকি সিবিআই তলবে গোঁসা!

এর তিন দিন পর রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় কলকাতায় ফেরেন বাংলার বিজেপি-র এই দুই নব্য নেতা নেত্রী। তার পর বিজেপি দফতরে একদিন শোভনকে সংবর্ধনা দেওয়া বলে ঠিক হয়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে শোভনকে নিমন্ত্রণ জানালেও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি বৈশাখীকে। তাতে গোঁসা ঘরে খিল দেন বৈশাখী। শেষমেশ বৈশাখীকেও চিঠি পাঠায় দল। কিন্তু রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ প্রকাশ্যে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম শোভন-বৈশাখী ডাল-ভাতের মতো। এক জনকে ডাকলেই অন্যজন আসবেন। দিলীপবাবুর সেই মন্তব্য কম বেইজ্জতির ছিল না বলে মনে করেন অনেকেই।

এর কদিন পর আবার দেখা যায়, রাজ্য বিজেপি-র বৈঠক ডাকা হয়েছে কিন্তু সেখানে শোভন চট্টোপাধ্যায় অনুপস্থিত। পরে শোভনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হয়, দাদা-কে ডাকাই হয়নি। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বলেন, জনে জনে কাউকেই ডাকা হয়না। মিটিংয়ের জন্য একটা নোটিশ ইস্যু করে দেওয়া হয় মাত্র।

ক্ষতের উপর নুনের মতো বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ আবার এরই মধ্যে দ্য ওয়াল-কে জানিয়ে দেন, দেবশ্রী রায়কে খুব শিগগির বিজেপি-তে সামিল করানো হবে। এমনকী দিলীপবাবু পষ্টাপষ্টি বলেন, কার কীসে আপত্তি রয়েছে তা শুনে দল চলবে না। বিজেপি যাঁকে উচিত মনে করবে তাঁকে দলে সামিল করাবে।

সন্দেহ নেই শোভন-বৈশাখীর উদ্দেশে দিলীপবাবুর বক্তব্য ছিল পরিষ্কার। সূত্রের খবর, এই সব সাত-পাঁচ মিলিয়েই ক্ষোভের ভিসুভিয়াস তৈরি হয়েছে গোল পার্কের বহুতলের ফ্ল্যাটে। যেখানে থাকেন শোভন-বৈশাখী।
তার পর শনিবার দুপুরে একটি টিভি চ্যানেলে বৈশাখী খোলাখুলিই বলেন, তাঁরা দল ছেড়ে দেবেন ভাবছেন। সেই সঙ্গে বৈশাখী জানান, “শোভন দা আমাকে বলছেন, সেতুটা ছিলেন তুমি। আর তোমাকে বাদ ওরা আমার কাছে পৌঁছতে চাইছে! এক মুহূর্ত থাকতে চাইনা। নিষ্কৃতি চাইছি।”

বৈশাখীর কথায়, শোভনদা ঠিক করে নিয়েছিলেন রাজনৈতিক সন্যাস নেবেন। সেই জায়গা থেকে আমি তাঁকে নতুন চ্যালেঞ্জে নামিয়েছিলাম। তিনি সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। এখন ওঁরই মনে হচ্ছে, সিদ্ধান্তটা হয়তো ভুল হয়েছিল!

Comments are closed.