রবিবার, এপ্রিল ২১

এমএলএ-কে তুলে নিয়ে আসব, ধনেখালিতে হুঙ্কার লকেটের, অসীমা বললেন ‘ওয়েলকাম’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনই মোয়া বিতরণ করেছিলেন তাঁর অনুগামীরা। প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ‘তোমরা নকুলদানা দিলে, আমরাও মোয়া দিতে পারি।’ কিন্তু সেটা ছিল সাংকেতিক। শনিবার দুপুরে ধনেখালি বিধানসভার গুড়াপে কর্মিসভা করতে গিয়ে সরাসরি তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী অসীমা পাত্রকে হুঙ্কার দিয়ে দিলেন বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। বললেন, ‘তুলে নিয়ে চলে যাব।’ পাল্টা দিলেন অসীমাও। ‘ধনেখালির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ বলে দিলেন, ‘ওয়েলকাম। কবে আসবে বলুক।’

তাঁর গরম গরম বক্তৃতা দলীয় কর্মীদের আগেও উজ্জীবিত করেছে। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক বীরভূমে গিয়ে সেখানকার তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে বারবার চ্যালেঞ্জ করেছেন। এ বার দল তাঁকে টিকিট দিয়েছে হুগলি লোকসভা থেকে। প্রচারে বেরিয়ে এ দিন লকেট বলেন, “আমি জানি এখানে একটা সংস্কৃতি আছে। যাঁরা আমাদের এজেন্ট হন, ভোটের আগের রাতে তাঁদের কিডন্যাপ করা হয়।” কিন্তু এ বার ‘কাঁটে কে টক্কর’। লকেট বুঝিয়ে দিলেন এই ভোটে এ সব করতে এলে অন্য ঝামেলা হবে। কী হবে? দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে রাজ্য বিজেপি-র মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট বলেন, “আমি বলে যাচ্ছি, যাঁর নির্দেশে, যে এমএলএ-এর নির্দেশে এ সব হবে, তাঁকে আমি গিয়ে তুলে আনব।”

তাঁর গড়ে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়বেন লকেট, আর চুপ করে বসে থাকবেন অসীমা, তাই আবার হয় নাকি! ধনেখালির বিধায়ক বলেন, “আমি ওকে ওয়েলকাম জানাচ্ছি। কবে আসবে বলুক। আমি তৈরি আছি। ধনেখালির মানুষ তৈরি আছে।” লকেটের এই বক্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ারও হুমকি দেন অসীমা।

বাম আমলে ধনেখালি ছিল সিপিএমের একচ্ছত্র আধিপত্য। লাল ঝাণ্ডা ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলের পতাকা ছিল ‘নিষিদ্ধ’। শুধু তো বিরোধী দলকে শায়েস্তা করা নয়, সিপিএমের ভিতরকার কোন্দলও ছিল চরমে। অনিল বসু বনাম রূপচাঁদ পালের গোষ্ঠী লড়াইয়ে দলের জোনাল সম্পাদক প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় খুন হয়ে গিয়েছিলেন। সন্ধে বেলা বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় গলায় গরুর দড়ি টেনে খুন করা হয়েছিল প্রদীপবাবুকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল সরকারে আসার পর পুরোটা উল্টে যায়। এখন সেখানে তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি হয় না।

প্রচারের শুরু থেকেই ঝড় তুলেছেন লকেট। উল্টোদিকে গত দু’বারের সাংসদ রত্না দে নাগকেই টিকিট দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যত দিন এগোচ্ছে সব মিলিয়ে হুগলি কেন্দ্রে তৃণমূল-বিজেপি লড়াই ততই জমে উঠছে। এখন দেখার ২৩ মে শেষ হাসি হাসেন কে!

Shares

Comments are closed.