ভিড়ের চাপে কচুয়া ধামে ধসে পড়ল পাঁচিল, পাঁচ জনের মৃত্যু, জখম বহু

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: কচুয়া ধামে ঢোকার মুখে পাঁচিল ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল অন্তত পাঁচ জনের। আহত ২৭ জনের মধ্যে আরও বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকেই মানুষের ঢল নামে কচুয়ার লোকনাথ ধামে। রাত যত বাড়ে বাড়তে থাকে ভিড়ের চাপ।আচমকাই মন্দিরে ঢোকার মুখে  হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে রাস্তার একদিকের পাঁচিল। লাখো লোকের ভিড়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয়ে যায় ছোটাছুটি। পাঁচিল চাপা পড়ে জখম হন বেশ কয়েকজন। পাশাপাশি পদপিষ্টও হয়ে জখম হয়েছেন আরও অনেকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁদেরই মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও সরকারি ভাবে এখনও তিনটি নাম জানা গেছে।

    এঁরা হলেন অপর্ণা সরকার (৩৫), পূর্ণিমা গড়াই (৬০), সনকা দাস ও তরুণ মণ্ডল।  অপর্ণা সরকারের বাড়ি মাটিয়ার দত্তপাড়ায়। পূর্ণিমা গড়াই রাজারহাটের বাসিন্দা। সনকা দাস এবং তরুণ মণ্ডল হাসনাবাদের আমলানির বাসিন্দা। আর একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

    প্রতিবছরই জন্মাষ্টমীতে মানুষের ঢল নামে বসিরহাট মহকুমার মাটিয়া থানার লোকনাথ বাবার মন্দিরে । রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অগনিত ভক্ত কচুয়ায় আসেন।  জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত তখন প্রায় তিনটে। মানুষের লম্বা লাইন কচুয়া ধামে ঢোকার মূল ফটকের বাইরে। আচমকাই পুকুরের ধারে পাঁচিলের (মূল কচুয়া ধামের পাঁচিল নয়) একাংশ ধসে পড়ে। নীচে চাপা পড়ে যান অনেকেই।  তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ছোটাছুটি শুরু হতেই পদপিষ্ট হন বহু ভক্ত।

    ভক্তদের ভিড় সামাল প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল সেখানে। ছিল লোকনাথ মিশনের স্বেচ্ছাসেবীরাও।  সঙ্গে সঙ্গে  উদ্ধার কাজে হাত লাগান তাঁরা। প্রাথমিকভাবে বসিরহাট জেলা হাসপাতাল, ধান্যকুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আহতদের। অনেকের অবস্থাই সঙ্কটজনক দেখে পরে  তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে পাঠানো হয় কলকাতার  এসএসকেএম, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালে।

    খবর পেয়েই দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এসএসকেএমে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে আহতদের ঠিকমতো দেখভাল হচ্ছে কি না, তার খবর নেন। কথা বলেন ডাক্তারদের সঙ্গে। পরে তিনি জানান, মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। গুরুতর আহতদের দেওয়া হবে এক লক্ষ টাকা। আর অল্প আহতরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা।

    লাগাতার বৃষ্টি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এ বারের ভিড় তাদের কাছে আশাতীত বলেও মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি। লোকনাথ মিশনের সভাপতি বিষ্ণুপদ রায় চৌধুরী বলেন, “আমরা প্রতিবছর এই উৎসবের আগে প্রশাসনের সঙ্গে লাগাতার সমন্বয় রক্ষা করে চলি। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এ বারের ভিড় আমাদের কাছে আশাতীত। কয়েক লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়েছে এ বার। আমাদের মন্দিরের বাইরে রাস্তার উপরেই ভিড়ের চাপে ভেঙে পড়ে পাঁচিল। ঘটনাটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। টানা বৃষ্টিতেই ওই পাঁচিলটি কমজোরি হয় পড়েছিল বলে মনে হচ্ছে।”

    ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও লাখো ভক্তের ভিড় কচুয়া ধামে। তাই সজাগ রয়েছে প্রশাসন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More