লকডাউনের সময় অবাঞ্ছিত লোক আটকাতে বাঁশের বেড়া জলপাইগুড়ি-পূর্ব বর্ধমানের গ্রামে

দেশজুড়ে লকডাউন শুরুর আগেই এই পন্থা নিয়েছিল বাঁকুড়ার একটি গ্রাম

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনৈতিক দলের বনধের সঙ্গে লকডাউনের কী পার্থক্য তা এখনও বুঝতে পারছেন না অনেকেই। এই অবস্থায় গ্রামরক্ষায় এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। জলপাইগুড়ির বিবেকানন্দ পল্লি ও পূর্ব বর্ধমানের হামিরপুরের মানুষ বৃহস্পতিবার বাঁশ দিয়ে আটকে দিলেন গ্রামের পথ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতেই তাঁদের এই পদক্ষেপ।

    জলপাইগুড়ির তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা পারের গ্রাম বিবেকানন্দ পল্লি। লকডাউনের সময়েও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া এই গ্রামে প্রচুর লোক ঢুকে পড়ছেন। গ্রামের লোক বলছেন যে এঁদের কেউ ভিন রাজ্য থেকে আসছেন কেউ আবার আশপাশের গ্রামের। তাই এবার অবাঞ্ছিত লোক গ্রামে ঢোকা বন্ধ করতে গ্রামের রাস্তা বাঁশ দিয়ে আটকে দিলেন এলাকার বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যরা।

    ক্লাবের সদস্য দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, “আমাদের গ্রামে ঢোকার চারটি রাস্তার মধ্যে একটি জরুরি প্রয়োজনের জন্য খোলা রেখে বাকি তিনটি রাস্তা আটকে দিয়েছি। আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে গ্রামে সচেতনতা প্রচার চালিয়ে সাফ জানিয়ে দিচ্ছি ভিন রাজ্য থেকে গ্রামে ফিরলে আগে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে ফিট সার্টিফিকেট নিতে হবে। তারপরে ১৪ দিন নিজের বাড়িতে কোয়ারান্টাইনে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে। এছাড়াও আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে এলাকায় সাবান বিলি করছি।”

    দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পরেই পূর্ব বর্ধমানের হামিরপুর গ্রামের বাসিন্দারাও গ্রামের রাস্তার মুখেই দিয়ে রেখেছেন লক্ষ্মণরেখা। বাঁশ পুঁতে আটকে দিয়েছেন রাস্তা। পোস্টার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সেখানে। গ্রামবাসীরা জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁদের গ্রামের যেসব বাসিন্দা ভিনরাজ্যে কাজ করেন তাঁদের এইসময় গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না। যাতে কেউ লুকিয়ে ঢুকতে না পারেন সসেদিকে নজর রাখতে পালা করে পাহারাও দিচ্ছেন গ্রামের যুবকরা।

    হামিরপুর গ্রামের অন্তত ২০ জন থেকে ২২ জন ভিনরাজ্যে কাজ করেন। তাঁদের অধিকাংশই এখনও বাড়িতে ফিরতে পারেননি। স্থানীয়রা খবর পেয়েছেন ওই যুবকরা গ্রামে ফেরার চেষ্টা করছেন।  মঙ্গলবার রাত থেকেই হামিরপুর গ্রামের বাসিন্দারা করোনা সতর্কতার পদক্ষেপ হিসাবে গ্রামের রাস্তার মুখে বাঁশ পুঁতে চেকপোস্ট তৈরি করে ফেলেছেন।

    হামিরপুর গ্রামের বাসিন্দা নির্মল ঘোষ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যেন প্রত্যেকের বাড়ির বাইরে একুশ দিন লক্ষ্মণরেখা টেনে রাখেন। তাই আমরাও ঠিক করেছি যে আমরা যেমন গ্রামের বাইরে বের হব না তেমনই যাঁরা এখন ভিন রাজ্য থেকে আসছেন তাঁদেরও ঢুকতে দেব না।” গ্রামের অপর বাসিন্দা নিশীথ ঘোষ বলেন, “তবে গ্রামবাসীদের মধ্যে যাঁরা সুস্থ শরীরে ফিরে আসবেন এবং করোনামুক্ত বলে ডাক্তারি সার্টিফিকেট দেখাবেন একমাত্র তাঁদেরই গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে।”

    বাঁকুড়ার পুখুরিয়াতে দেশজোড়া লকডাউন ঘোষণা করার আগেই গ্রামের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। বহিরাগতদের গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। একান্ত প্রয়োজন থাকলে তবেই গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল। গ্রামের লোককেও উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে গ্রামের বাইরে যেতে হচ্ছিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More