রবিবার, অক্টোবর ২০

দেবের সভায় লোক কই? ধু-ধু মাঠে বক্তৃতা করেই কপ্টার ওড়ালেন ‘পাগলু’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: দেবের নামেও লোক হল না বাঁশবেড়িয়ার তৃণমূলের সভায়। আর তা নিয়ে তীব্র অস্বস্তিতে হুগলি জেলা তৃণমূল।

বাঁশবেড়িয়া ফুটবল মাঠে সভা। বাঁধা হয়েছিল মঞ্চ। তাতে লাগানো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর হুগলি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রত্না দে নাগের ছবি। পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল খবর। কিন্তু খবর গেলেও এল না লোক। ফাঁকা মাঠে খানিকক্ষণ বক্তব্য রেখেই হেলিকপ্টার উড়িয়ে চলে যান অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব।

 

রাজনৈতিক মহলের মতে, হুগলি জেলায় শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দল তীব্র। অনেকে বলেন, জেলায় যত জন বিধায়ক, ততগুলি গোষ্ঠী। এ ওঁকে দেখতে পারেন না, ও তাঁকে। যে কারণে রত্নাদেবীর প্রচার শুরু করতেও খানিকটা বিলম্ব হয়েছিল। দু’বারের সাংসদ যখন কোন্দল কাঁটা তুলতে ঘরোয়া সভা সারতে নাজেহাল, তখন প্রকাশ্য প্রচারে ঝড় তুলে দিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। এমনকী মাজা ভাঙা সংগঠন নিয়ে বামেরাও মিটিং-মিছিল শুরু করে দিয়েছিল। কিন্তু এ দিনের ছবি দেখে যারপরনাই চিন্তায় শাসক দল।

বাঁশবেড়িয়া মানে সপ্তগ্রাম বিধানসভার অধীন। এই এলাকার বিধায়ক আবার রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত। এ দিন তাঁকেও দেখা যায় লোক ডাকতে। ভরদুপুরে হলুদ সিল্কের পাঞ্জাবি পরে তপনবাবুকেও ঘেমে-নেয়ে একাকার হতে হয়। কিন্তু মেরেকেটে শ’তিনেক লোক এসেছিলেন সাত হাজারের মাঠে। যাঁদের আবার অনেকেই দূর থেকে হেলিকপ্টার দেখে ঘরমুখো হাঁটা দিয়েছেন। কিছু কিশোর-কিশোরী মঞ্চের সামনে ভিড় করে ‘পাগলুর’ সঙ্গে হাত মেলাবে বলে।

ভোট প্রচারে এ বার ফাঁকা মাঠে সভা করার নজির বেশ কয়েকটি হয়েছে। ঝাড়্গ্রামের বেলপাহাড়িতে সিপিএম প্রার্থী দেবলীনা হেমব্রমের সভায় ফাঁকা মাঠে বক্তৃতা করে ফিরতে হয় দলের পলিটব্যুরোর সদস্য বৃন্দা কারাটকে। আমতায় রাজনাথ সিং এবং কাঁথির নীলপুরে রাহুল সিনহাকে ধু-ধু মাঠে সভা করতে হয়। এ বার সেই তালিকায় নাম উঠে গেল তৃণমূলেরও। লোক না হওয়া নিয়ে অবশ্য বিজেপি কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “মমতার নামে লোক হচ্ছে না বলে দেবকে এনেছিল তৃণমূল। আসলে ওরা বুঝে গিয়েছে এখন তৃণমূল ব্র্যান্ডটাই আর বাজারে কাটছে না।” যদিও শাসক দলের নেতারা এ নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে জেলা তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা ঘরোয়া আলোচনায় নিজেদের সাংগঠিক দুর্বলতার কথা মেনে নিয়েছেন।

Comments are closed.