রবিবার, অক্টোবর ২০

মিমিকে দেখতে লোক কই, ভাঙড়ে কি ঝিমিয়ে পড়ল তৃণমূল!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বক্স অফিসে হালফিলে বড় হিট ছবি বিশেষ নেই! তবু তারকা প্রার্থী তো! টলিউডের প্রথম শ্রেণির গ্ল্যামার। অথচ সেই মিমি চক্রবর্তীকে নিয়ে ভাঙড়ে ভিড় নেই! হুজুগ নেই! ছোট্ট মাঠে সভা। তাও খাঁ খাঁ করছে।

ভাবা যায়?

তৃণমূলের রাজ্য নেতারাও ভাবতে পারছেন না! কেমন এমন হলো? তা হলে ভাঙড়ে ঝিমিয়ে পড়ল তৃণমূল? কাইজার, আরাবুল, রেজ্জাক মোল্লা- ভাঙড়ের কিংবদন্তী এই নেতারা তো সবাই শাসক দলে। তাও কেন এমন হলো?

মঙ্গলবার বাসন্তী হাইওয়ের ধারে নারায়ণপুর অঞ্চলে সভা করেন যাদবপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ। কিন্তু নারায়ণপুরে সেই সভায় জমায়েতের যা ছবি শাসক দলকে দেখতে হল, তাতে নেতারাও ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। মিমি-র উপস্থিতিতেও যদিও লোকে উৎসাহ না পায়, তাহলে তা উদ্বগের কারণ বৈকি।

এমনিতে গ্রামের দিকে চিত্র তারকা যাওয়া মানেই তাঁর গাড়ির উপর হামলে পড়বে জনতা। এটাই চেনা ছবি। তার উপর আবার মিমির মতো এইরকম একজন মুখ। মাঝ আকাশে যাঁর কেরিয়ার। শতাব্দী রায়, দেবশ্রী রায়, সন্ধ্যা রায় বা মুনমুন সেনরা যখন ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হয়েছিলেন, তখন তাঁদের কেরিয়ার শেষ। কিন্তু মিমি, নুসরতের ক্ষেত্রে তো তা নয়। ও দিকে ঘাটালে দেবের প্রচারেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস রয়েছে। বসিরহাটে নুসরতের প্রচারেও জনতার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতোই। ক’দিন আগে সন্দেশখালিতে তো জনজোয়ারে ভেসে গিয়েছিলেন নুসরত জাহান। তাঁকে নিয়ে উত্তরবঙ্গেও সভা করিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকের মতে, লোক টানতেই নুসরতকে নিয়ে গিয়েছিলেন দিদি। সব ছবি মিলিয়ে দেখলে, মিমির জন্য চিন্তা হওয়ারই কথা শাসক দলের।

দু’বছর আগেও ভাঙড় মানে ছিল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। এমনকী যা গণ্ডগোল হতো, সবটাই তৃণমূল বনাম তৃণমূল। আরাবুল ইসলাম বনাম কাইজারের গোষ্ঠীর। সেখানে বিরোধীরা কোথায়! আরাবুলদের সেই দাপটে সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর রেজ্জাক মোল্লাকে সেখানে প্রার্থী করার পর সে কী কাণ্ড! তারপর দিদি বুঝিয়ে সুজিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিন্তু সেই ভাঙড়ে গত দেড় বছরে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। পাওয়ারগ্রিড-বিরোধী আন্দোলনে প্রাণ গিয়েছে বেশ কয়েক জনের। জমি এবং বাস্তুতন্ত্র রক্ষা কমিটি সরকার বিরোধী আন্দোলনকে এমন জায়গায় নিয়ে যায় যে আরাবুলের খাস তালুকেই তৃণমূলকে কোণঠাসা হয়ে যেতে হয়।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয় জমি কমিটি। পোলেরহাট-২ পঞ্চায়েত সমতিতে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি ধসিয়ে দিয়ে তা দখল করে নেয় জমি কমিটি। তাঁদের মনোনয়ন নিয়েও কোর্টকাছারি কম হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপ নমিনেশন নিয়ে হাইকোর্ট তো রায় দিয়েই দিয়েছিল। যদিও ই-নমিনেশন বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মিমিকে দেখতে লোক হচ্ছে না কেন?

অনেকের মতে, সেই জনভিত্তি তৃণমূলের আর নেই। পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, শাসক দলের সমর্থন কত, তা নেতারা নিজেরাও সঠিক ভাবে বলতে পারবেন না। তাঁদের কথায়, এগারোর পর আর কোনও ভোটই অবাধ হয়নি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই জনপদে। পুরোটাই হয়েছে পেশি শক্তির ভোট। ইতিমধ্যে যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দফায় দফায় ভাঙড়ে গিয়েছেন। জমি আন্দোলনের অন্যতম শক্তি সিপিআইএমএল (রেডস্টার) সমর্থনও জানিয়েছেন আইনজীবী প্রার্থীকে। ফলে সব মিলিয়ে ভাঙড় নিয়ে বেশ খানিকটা চাপে তৃণমূল।

যদিও শাসক দল মিমির সভায় লোক না হওয়ার বিষয়টিতে প্রকাশ্যে আমল দিচ্ছে না। দলের এক নেতার কথায়, “ওটা কোনও সংগঠিত কর্মসূচি ছিল না। বিকেলে কলেজ মাঠে যে সমাবেশ হয়েছে, তা সিপিএম জীবনেও কল্পনা করতে পারবেন না।” আরাবুল-ঘনিষ্ঠ ওই নেতার কথায়, “ভাঙড় থেকে মিমি চক্রবর্তী দু’লক্ষ ভোটের লিড পাবেন।”

Comments are closed.