শনিবার, জানুয়ারি ২৫
TheWall
TheWall

মাইনে বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক-উষ্মা, বিক্ষোভ শহরের হাসপাতালে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভিযোগ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন অস্থায়ী কর্মীরা। মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে অবস্থান বিক্ষোভে জমা হয়েছেন অসংখ্য অস্থায়ী কর্মী।

শুক্রবার দুপুর একটা নাগাদ বাইপাস সংলগ্ন অ্যাপোলো হাসপাতাল চত্বরে শুরু হয় বিক্ষোভ। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভ হঠাতে নাকি হাসপাতালে চড়াও হয়েছিল গুণ্ডাবাহিনী। তাও আবার শাসক দলের এক কাউন্সিলারের নেতৃত্বে। শুধু তাই নয়, মহিলা বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বাছা বাছা শব্দে নাকি আক্রমণ করেছেন শাসকদলের ওই কাউন্সিলার। সঙ্গে উড়ে এসেছে হুমকিও। এক কর্মীর কথায়, “উনি এসেই বললেন, বেশি হাওয়া দিস না, সব হাওয়া করে দেব। হাসপাতালের বাইরে আয়, সবকটাকে দেখে নেব।”

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আচমকাই পরিস্থিতি একটু বেসামাল হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় কাউন্সিলারের। এরপর তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তারপরেই নাকি হাসপাতাল চত্বরের বাইরে জড়ো হয় জনা পঞ্চাশেক ছেলে। অস্থায়ী কর্মীদের অভিযোগ, ফোন করে এই গুণ্ডাদের ডেকেছেন ওই কাউন্সিলার।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। বিক্ষোভরত এক কর্মীর কথায়, “গত বছর কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছিল সকলের ৩৫০০ টাকা বেতন বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও সে কথা রাখেনি হাসপাতাল। বদলে বলা হয়েছে যা দেওয়া হচ্ছে সেটাই নাকি অনেক। আমাদের কোনও যোগ্যতাই নেই এসব পাওয়ার।”

বিষয়টা ঠিক কী?

অ্যাপোলো-র ওই কর্মীর কথায়, “আমাদের দু’ভাবে বেতন বৃদ্ধি হয়। সরকার আমাদের নূন্যতম মজুরির একটা অংশ বৃদ্ধি করে। আর বাকিটা বাড়ায় হাসপাতাল। ২০১৮ সালে বলা হয়েছিল সবার ৩৫০০ টাকা বেতন বাড়বে। কিন্তু আচমকাই শুনলাম লেবার কমিশনে গিয়ে নাকি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে দু’বছরে ১৭০০ টাকা করে বেতন বাড়বে আমাদের।”

এরপরেই শুরু হয় নাটক। গত বছর জুলাই মাসে ১৭০০ টাকার বদলে ১৫২৫ টাকা বেতন বৃদ্ধি হয়ে কর্মীদের। নূন্যতম মজুরির অংশ থেকে ১৭৫ টাকা কেটে নেওয়া হয়। কর্মীদের অভিযোগ, কেন এই টাকা কাটা হয়েছে সে ব্যাপারে কিছুই জানেন না তাঁরা। চলতি বছর জানুয়ারি এবং জুলাই মাসে কোনও বেতন বৃদ্ধিই হয়নি কর্মীদের। বরং হাসপাতালের কর্মী ইউনিয়ানের তরফে বলা হয়েছে আদপে চুক্তিপত্র বুঝতেই নাকি ভুল হয়েছিল।

অ্যাপোলোর আর এক কর্মীর কথায়, “তৃণমূলের ইউনিয়ন রয়েছে এই হাসপাতালে। সেখানে রয়েছেন শাসকদলের চারজন বড় মাথা। তাঁরা গিয়ে লেবার কমিশনে চুক্তিপত্র সই করে এলেন, এদিকে আমরা কিছুই জানতে পারলাম না। যে ইউনিয়ানের উচিত আমাদের পাশে দাঁড়ানো, তারা সরকার আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হয়ে কথা বলছে। কিছু জিজ্ঞেস করলেই বলছে আমরা বুঝতে ভুল করেছি। এটা বিশ্বাসযোগ্য?”

এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমাদের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হয়েছিল। আমরা সব নিয়ম মেনেই যা করার করেছি। এই বিক্ষোভের ঘটনার কোনও ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই।”

Share.

Comments are closed.