বাংলায় জঙ্গি প্রভাব বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ শনিবার মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হয়েছে ৬ আল-কায়দা জঙ্গি। তাদের কাছে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। একই দিনে কেরলে ধৃত ৩ আল-কায়দা জঙ্গিরও বাড়ি মুর্শিদাবাদ। বাংলায় এভাবে ক্রমাগত জঙ্গি প্রভাব বাড়তে থাকার ঘটনায় উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কেন্দ্রের অভিযোগ, এই সময়েও রাজ্যের উদাসীন মনোভাব যথেষ্ট চিন্তার।

সূত্রের খবর, বাংলার সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ক্রমেই প্রভাব বাড়ছে বাংলাদেশের জামাতুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের। জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি জঙ্গিরা এখানেও তাদের একটা আলাদা মডিউল তৈরি করেছে যাকে তারা জামাতুল মুজাহিদিন ইন্ডিয়া বলছে। এই দলে যোগ দিচ্ছে এই রাজ্যের ছেলে-মেয়েরাও। তার প্রমাণও মিলেছে। এর পরে এবার ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদেরও খোঁজ মিলেছে বাংলায়। আর এই জঙ্গিরা একে অন্যকে সাহায্য করছে। যেমন মুর্শিদাবাদের আল-কায়দা জঙ্গিরা বিস্ফোরক তৈরি ও অন্যান্য কাজে জামাত জঙ্গিদের মদত পেয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভিযোগ, তারা বারবার রাজ্যকে সতর্ক করেছে। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরাতে ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করছে জেএমবি। কিন্তু দেখা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের গতিবিধি ত্রিপুরা ও অসমের থেকে পশ্চিমবঙ্গে বেশি। আর তার প্রধান কারণ সরকারের নজরদারির অভাব, এমনটাই অভিযোগ অমিত শাহের দফতরের।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাংলার সীমান্তবর্তী জেলাগুলির ভাষার সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া পড়শি দেশের মানুষের ভাষার মিল রয়েছে। এই মিলকে কাজে লাগিয়েই বাংলায় ঢুকে নিজেদের কাজ চালাচ্ছে তারা। কোথাও মাদ্রাসার আড়ালে, কোথাও আবার প্রত্যন্ত গ্রামের মধ্যে নিজেদের ঘাঁটি গাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সদস্য বাড়াচ্ছে তারা। ভুয়ো পরিচয় নিয়ে তারা থাকছে। যেমনটাই খাগড়াগড়ে দেখা গিয়েছিল। রীতিমতো সংসার পেতে নিজেদের মডিউল বাড়িয়ে চলেছে তারা। প্রশাসনের চোখের আড়ালে কীভাবে এই কাজ হচ্ছে, সেটাই প্রশ্ন কেন্দ্রের।

কেন্দ্রের মতে, গত কয়েক বছরে যেভাবে বাংলায় জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে তার পিছনে পাকিস্তান ও চিনের মদত রয়েছে। পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি প্রত্যক্ষভাবে তাদের সাহায্য করছে। সাহায্য আসছে চিনের তরফেও। জঙ্গিরা চেষ্টা করছে কাশ্মীরকে এতদিন ভাবে যেভাবে উত্তপ্ত করে রাখা হয়েছে, সেভাবেই ভারতের অন্যান্য সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতেও করা হোক। সেই উদ্দেশ্যেই জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়িয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা ভাষায় যে পরিমাণ জেহাদি নথি গোয়েন্দাদের হাতে উঠে এসেছে তা থেকে সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। এত প্রমাণ মেলা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেই অভিযোগ তাদের। মুর্শিদাবাদের ঘটনার পরে নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে কংগ্রেস, সিপিএমও।

অবশ্য এরপরেও নাকি এনআইএ-র ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ নবান্ন। রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে কেন কেন মুর্শিদাবাদে তল্লাশি চালানো হল তা নিয়েই মূলত ক্ষোভ নবান্নের। তাৎপর্যপূর্ণ হল, নবান্ন তো পরের কথা মুর্শিদাবাদের জেলা পুলিশ সুপারও নাকি তল্লাশির প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যাপারটার টের পাননি। ধরপাকড় শেষ হয়ে যাওয়ার পর এনআইএ-র অফিসাররা রাজ্য পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে। সূত্রের মতে, এ ঘটনায় নবান্ন এতই চটেছে যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কর্তার কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More