বার্নপুর হাসপাতালের দুই করোনা আক্রান্ত সাফাইকর্মী এলাকা থেকে বিতাড়িত, ভর্তির দাবিতে ধরনা, বিক্ষোভ ঠিকাকর্মীদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: এলাকার লোক করোনা সংক্রমণের কথা জেনে ফেলায় বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। তাই শিল্পনগরীর বার্নপুর হাসপাতালের বাইরে ধরনায় বসলেন দুই সাফাইকর্মী।

জুলাই মাসে শিল্পাঞ্চলের বার্নপুর হাসপাতালে একজন করোনা রোগী মারা যান। তারপরে চিকিৎসক, নার্স, ঠিকা কর্মী এবং সাফাই কর্মী সহ ৫৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ। হোম কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় জুলাই মাসের শেষ দিকে। তখন সবাইকে লালারসের নমুনা পরীক্ষা করানোর জন্য বলা হয়, অগস্ট মাসের প্রথমে রিপোর্ট আসে। তাতে দেখা যায় দু’জন ঠিকা সাফাইকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই দু’জন সাফাই কর্মীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেয়। সমস্যার সূত্রপাত সেখানেই।

তাঁদের করোনা হয়েছে – পাড়ার লোক এ কথা জেনে ফেলার পরে তাঁদের ঘর থেকে তো বটেই পাড়া থেকেও বের করে দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা দু’জনে এসে হাজির হন হাসপাতালের দরজায়। সেখানেই তাঁরা কার্যত ধর্নায় বসে যান। হাসপাতালেই তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে বলে দাবি করতে থাকেন। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের সমস্ত ঠিকাকর্মী একজোট হয়ে করোনা আক্রান্ত ওই ঠিকা কর্মীর চিকিৎসা হাসপাতাল কতৃর্পক্ষকে করাতে হবে বলে দাবি করতে থাকেন।

কর্মীদের অভিযোগ, করোনা আক্রান্ত ঠিকাকর্মীদের ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত দিতে রাজি নয়। অথচ সরকার করোনা আক্রান্তদের সব রকম সহযোগিতা করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।

হাসপাতালের সুপার আর গুহ নিয়োগীকে করোনা আক্রান্ত ওই দুই রোগীর ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলবেন না। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করবেন এমন কথাও তিনি দেননি কারও কাছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের বাইরে ঠিকাকর্মীরা টানা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

করোনা আক্রান্তদের নিয়ে অনোক জায়গাতেই লোকজন শঙ্কিত। ফলে সামাজিক বয়কটের মুখে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। বার্নপুরেও সেই ঘটনাই দেখা গেল। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিম বর্ধমানে নতুন করে ১২০ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৪২৬ হয়েছে। নতুন করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩২ জন। ফলে মোট করোনামুক্তের সংখ্যা এখন ৭২৬। জেলায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মুহূর্তে জেলায় করোনা পজিটিভের সংখ্যা ৬৮৮।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More