বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

দিঘায় দিদি, বিধিনিষেধে পর্যটকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেঘলা দিনে দিঘা বেড়াতে এসে কোথায় একটু মজা করে ঘুরে-বেড়াবেন, তা নয় তো থাকতে হচ্ছে বিধিনিষেধের বেড়াজালে! ক্ষোভ তো হবেই।

সোমবার থেকে যাঁরা দিঘায় রয়েছেন, তাঁদের বেশ বিড়ম্বনার মধ্যেই পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ পর্যটকদের। ইচ্ছে হলেই সমুদ্র সৈকত কিংবা ঝাউ বনে ঘুরতে যাওয়া যাচ্ছে না। যেতে গেলেই নিরাপত্তার কড়াকড়িতে আটকে দিচ্ছে প্রশাসন। কারণ দিদি গিয়েছেন দিঘায়! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বজায় রাখতে হেসে খেলে ঘুরে বেড়ানো অনেকটাই বন্ধ পর্যটকদের।

দমদম থেকে বেড়াতে যাওয়া একজন বললেন, “টাকা পয়সা খরচ করে, পরিবার পরিজন নিয়ে দিঘা বেড়াতে এসে কী লাভ বলুন তো ! এ দিকে যাবেন না, ওদিকে যাবেন না, সারাক্ষণ এই কথা শুনতে শুনতে যেন কান পচে গেল।” অনেক বার দিঘায় আসা কলকাতারই আর এক পর্যটক বলেন, “খাকি উর্দির দাপাদাপিতে দিঘা যেন তার নিজের ছন্দটাই হারিয়ে ফেলেছে।” মুখ্যমন্ত্রীর দিঘা সফরের জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে ঘিরে দেওয়া হয়েছে ওল্ড দিঘার মেরিন ড্রাইভের বেশ কিছুটা অংশ।

আরও পড়ুন: আগে সাধারণ না আগে ভিআইপি, মমতার ট্রাফিক কন্ট্রোলের পরের দিনেই উঠল প্রশ্ন

মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী আটোসাঁটো করতে গিয়ে পর্যটকদের মধ্যে তার প্রভাব পড়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিল বিভিন্ন মহলে। অনেকের মতে, দিদি যেটা চান না, সেটাই করছে তাঁর প্রশাসন।

চলতি মাসের ৮ তারিখে বিমানবন্দর থেকে ফেরার সময়ে তেঘরিয়ার কাছে গাড়ির লাইন দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্টের থেকে জানতে চান, এত জ্যাম কেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “আপনার যাওয়ার জন্যই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।” রেগে যান মমতা। তারপর নিজেই ট্রাফিক কন্ট্রোল করে সব গাড়িগুলিকে পাস করিয়ে দেন। এবং জানিয়ে দেন, তাঁর জন্য সাধারণ মানুষের স্বাভাভিক জীবনযাত্রা ধাক্কা খাক সেটা তিনি একেবারেই চান না। যদিও তার পরের দিনই দেখা গিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাবে বলে বন্ধ রয়েছে দ্বিতীয় হুগলি সেতু। অর্থাৎ তিনি না চাইলেও তাঁর নিরাপত্তার বন্দোবস্তের জন্য প্রশাসন স্বাভাবিক গতিবিধিকে নিয়ন্ত্রণ করছেই। সেই একই ঘটনা ঘটছে দিঘাতেও।

সোমবার দিঘা পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা গিয়েছিল সমুদ্রতীরের ছোট্টগ্রাম মৈথিলপুরে অন্য মুডে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেখানকার মানুষের খোঁজ খবর নেওয়া থেকে শুরু করে গেরস্থের উঠোনে বসে চুটিয়ে আড্ডা এবং কচিকাচাদের লজেন্স দেওয়া- একদম আটপৌরে চিত্র। কিন্তু মঙ্গলবার দিঘার পর্যটকদের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর হয়নি। অনেকের মতে, দিদি হয়তো জানেনও না নিরাপত্তার নামে পর্যটকরা সচ্ছন্দে ঘুরতে পারছেন না। জানলে হয়তো খুশি হতেন না।

যদিও প্রশাসনিক কর্তাদের বক্তব্য, যা করা হয়েছে সবটাই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনেই করা হয়েছে। দেশের যে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সেটাই দস্তুর। এইটুকু অসুবিধে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

Comments are closed.