শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

সর্বনাশা সেলফি, টয় ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু রিষড়ার পর্যটকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছবি তোলার বড্ড নেশা ছিল হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা প্রদীপ সাক্সেনার। সেই ছবি তুলতে হিয়েই হল সর্বনাশ। সেলফি তুলতে গিয়ে চলন্ত টয় ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রদীপবাবুর।

পঞ্চমীর দিন সপরিবারে দার্জিলিং বেড়াতে গিয়েছিলেন পেশায় কেবল অপারেটার প্রদীপ সাক্সেনা। একাদশীর দিন সন্ধায় বাগডোগরা থেকে বিমানে কলকাতা ফেরার কথা ছিল তাঁদের। সেই মত সকালে হোটেল থেকে চেক আউট করেন প্রদীপবাবু এবং তাঁর পরিবার। ঘুম স্টেশন থেকে ট্রয় ট্রেনে চড়েন প্রদীপবাবু, তাঁর স্ত্রী নম্রতা আর মেয়ে অনুশ্রী। ট্রেন বাতাসিয়া স্টেশনে ঢোকার সময় প্রদীপবাবু দরজায় দাঁরিয়ে সেলফি তুলতে যান। সেই সময় আচমকাই চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান প্রদীপবাবু।  মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান তিনি। এরপর দার্জিলিংয়ের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

খবর পেয়ে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব হাসপাতালে যান। রিষড়ার বাড়িতে মৃতদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ রিষড়ার বাঙুর পার্কের বাড়িতে এসে পৌঁছয় প্রদীপবাবুর দেহ। পাড়ায় বরাবরই খুব মিশুকে বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। প্রদীপ সাক্সেনার আচমকা মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। দেহ বাড়িতে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়-পরিজনরা এবং প্রতিবেশীরা। রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র, ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ খান, তৃণমূল হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব মরদেহে মালা দিয়ে সমবেদনা জানান।

প্রদীপবাবুর আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক সকলেই। প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়স্বজন সকলেই বলছেন, “বড্ড ভালো ছেলে ছিল। ছবি তোলা নেশা ছিল ওর। শখের ছবির জন্য শেষ পর্যন্ত প্রাণ দিতে হল ওকে।”

Comments are closed.