শনিবার, জুলাই ২০

বিজেপি-র ডাকা বনধে সব বন্ধ বসিরহাটে, গোটা মহকুমা থমথমে, জনজীবন প্রায় স্তব্ধ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির ঘটনায় থমথমে বসিরহাট। তার মধ্যেই বিজেপি-র ডাকা বনধ চলছে সকাল থেকে। চলছে না যানবাহন। সারা মহকুমা জুড়েই বন্ধ দোকানপাট। বাসন্তী হাইওয়েতে দু’একটি সরকারি বাস চললেও, সার্বিক জনজীবন স্তব্ধ। হাড়োয়া রোড স্টেশনে রেল অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। ফলে শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত। সকাল দশটা পর্যন্ত বনধ ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।

শনিবার বিকেল থেকে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালির ন্যাজাট। দু’দলই একে অন্যের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপি-র দাবি তাদের আরও কর্মী নিখোঁজ। বিজেপি নেতা মুকুল রায় দাবি করেছেন তাঁদের পাঁচ কর্মীকে খুন করেছে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাহিনী।

ইতিমধ্যেই সারা বসিরহাট মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ২০১৭ সালে বসিরহাট মহকুমার একধিক জায়গায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়েও ইন্টারনেট বন্ধ করেছিল প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে গুজব রুখতেই এই পদক্ষেপ।

শনিবারের ঘটনা নিয়ে রবিবার দিনভর উত্তেজনা চলে। দুই কর্মীর মৃতদেহ নিয়ে বিজেপি নেতারা কলকাতায় আসতে গেলে মিনাখাঁ থানার সামনে দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, লকেট চট্টোপাধ্যায়দের আটকে দেয় পুলিশ। রাস্তায় সৎকার করবে বলে চিতা সাজাতে শুরু করে বিজেপি। পরে অবশ্য দেহ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সন্দেশখালিতে। অন্যদিকে সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে। নবান্নকে চিঠি দিয়েছে অমিত শাহের মন্ত্রক। পাল্টা চিঠি দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও। সব মিলিয়ে ভোট পরবর্তী অশান্তিতে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।

Comments are closed.