মঙ্গলবার, মে ২১

এ দিকে একা অর্জুন, ও দিকে বাকি সব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্জুন সিং। পরশু পর্যন্ত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের তৃণমূল কর্মীরা বলতেন, ‘দাদা একাই একশ!

অর্জুন দল ছাড়ার পর শুক্রবার তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে দেখা গেল, পাল্টা শক্তি-র বার্তা দিতে উত্তর চব্বিশ পরগনার প্রায় একশ নেতারই ভিড়! তৃণমূল জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, নির্মল ঘোষ, পার্থ ভৌমিক, পরশ দত্ত মায় কে নেই সেখানে! অর্জুনের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি বাহিনী তৈরি করতে যাঁরা আবার দলে বরণ করে  নিলেন ভাটপাড়া, ব্যারাকপুরের সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি-র কিছু নিচুতলার নেতাকেও।

শুক্রবার সকালেই দ্য ওয়াল-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিলএক সময় বামেদের সঙ্গে থাকাজিতু সাউকে জোড়া ফুলের জার্সি পড়িয়ে ময়দানে নামাতে পারে তৃণমূল। যিনি নাকি টক্কর দেবেন অর্জুনকে। বিকেলে হলও তাই। জিতু-সহ একাধিক নেতাকে তৃণমূল ভবনে এনে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পাশে বসে ব্যারাকপুরের সাংসদ ও উনিশের ভোটের প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী। অর্জুন দল ছাড়ার পরেও ব্যারাকপুরে তৃণমূল যে কত শক্তিশালী তার প্রমাণ দিতেই এতোকিছুর আয়োজন ছিল।

অর্জুন বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যেই যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, “নেত্রীর ছবি একটাই। আমাদের একটাই প্রোডাক্ট। দু’লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতবেন দীনেশ ত্রিবেদী। একটা ভোট কম হলে বলবেন।” তার পরই শক্তি প্রদর্শনের তোড়জোড় শুরু হয় ঘাসফুল শিবিরে।

এ দিন যাঁরা তৃণমূলে যোগ দেন, তাঁদের কেউ গত কয়েক বছর ধরে অর্জুনের দাপটে ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেনকেউ আবার অর্জুনের প্রতিপক্ষ। সিপিএমকংগ্রেসের গুচ্ছ স্থানীয় নেতা এ দিন যোগ দেন ঘাসফুল শিবিরে। কেউ ব্যারাকপুর বা নৈহাটিরকেউ গারুলিয়ার তো কেউ ভাটপাড়া বা জগদ্দলের। একা অর্জুনের বিরুদ্ধে বাকি সব।

তবে যাঁকে রুখতে এতো সমরসজ্জা তিনিও পাল্টা টিপ্পনি কাটতে ছাড়েননি। বলেন, মশা-মাছির ভিড় বাড়াচ্ছে ওঁরা। ভাল আনন্দের সঙ্গে করুক। দীনেশদা ভুলে গেছেন কার জন্য দশ বছর সাংসদ ছিলেন। ব্যারাকপুরের মানুষ ওঁর স্মরণশক্তি ফিরিয়ে দেবে!

এ দিকে অর্জুন সিংকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করার কথা এ দিন ঘোষণা করেছে তৃণমূল। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, যে নেতা বিজেপি-তে যোগ দিলেন তাঁকে বহিষ্কার না করে সাসপেন্ড কেনকেন বহিষ্কার নয়দলের মহাসচিব পার্থবাবুর যুক্তি, ‘উনি বিধায়ক।’ যদিও কদিন আগে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার জন্য বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খানকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। অনেকের মতে, অর্জুনের অনুগামীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। বার্তাটা এও যেন, ভোটের পর তৃণমূলে ফিরেও আসতে পারেন অর্জুন।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এর থেকে হাস্যকর কিছু হয় না। এক জন নেতা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-র সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিচ্ছেন। তার পর তাঁকে সাসপেন্ড করা বা বহিষ্কার করা দুটোই অর্থহীন।

অর্জুন বিজেপি-তে যাওয়ার পর থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল শিল্পাঞ্চলের পুরবোর্ডগুলি নিয়ে। কী হবে সেখানে? সেগুলি কি ভেঙে যাবে? অর্জুনের সঙ্গে লাইন দিয়ে কাউন্সিলররাও কি জোড়াফুল ছেড়ে চলে যাবেন পদ্ম শিবিরে? বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক দৌড়ঝাপ করে সে সব ঠেকিয়ে দেন।

এ দিন তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে ভাটপাড়ার জন্য আরও একটি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। দলীয় কমিটি এবং শাখা সংগঠন গুলির সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে আপাতত সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য ১২ জনের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রাজনীতির খোঁজ খবর রাখা অনেকেই বলছেন, ভোটের প্রচার এক জিনিস আর ভোটের দিনটা একেবারে আলাদা। ওটা ওয়ান ডে ম্যাচ। সেখানেই বোঝা যাবে দল বদলেও অর্জুনের ফর্ম একই থাকে, নাকি ময়দান দখল করে নেয় তৃণমূলের নতুন বাহিনী।

Shares

Comments are closed.