অনলাইনে ভর্তি চলছে, কলেজ গেট শুনশান, টিএমসিপি কোথায়!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনে পড়ে গত বছরের এই মে-জুন মাসের কথা?

    গোটা রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন তটস্থ। এই বুঝি কোনও কলেজ থেকে ভর্তি দুর্নীতি নিয়ে সংঘর্ষের খবর এল! কলকাতা শহর তো বটেই, জেলায় জেলায়, কলেজে কলেজে ভর্তি সিন্ডিকেট নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। কাঠগড়ায় উঠেছিল শাসক দলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। কিন্তু এ বার সে সব নেই। একেবারেই নেই।

    অনলাইনে চলছে ভর্তি। ফর্ম ফিলআপ অনলাইনে। লিস্ট বেরোচ্ছে অনলাইনে। তাতে নাম উঠলে ই-পেমেন্টের মাধ্যমেই ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হচ্ছে সংশিলষ্ট কলেজে। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকা- যে দিন প্রথম ক্লাস হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কলেজ, সে দিনই প্রথম কলেজের উঠোনে পা রাখবে পড়ুয়ারা। তার আগে নয়।

    ফলে নেই সংঘর্ষ। নেই তোলাবাজির অভিযোগ। নেই পুলিশের তটস্থতা। কলেজ গেটে নেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের উপস্থিতিও। মফস্বল বা গ্রামের দিকে সমস্যটা অন্য। অনলাইন হলেও, গোটা ব্যাপারটায় সড়্গড় নয় ছাত্রছাত্রীরা। অভিভাবকরাও নন। ফলে গ্রাম-মফস্বলের ছবিটা কী? অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করলেও, ছাত্রছাত্রীদের একটা ঝোঁক রয়েছে কলেজে একবার ঢুঁ মারার। কিন্তু তা করতে গিয়েই একাধিক জেলার একাধিক অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা দেখছে, কলেজের গেটে নেই ইউনিয়নের দাদা-দিদিরা।

    তৃণমূল ছাত্রপরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, “আমরাই সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দিয়েছি কেউ যেন এ সবে না থাকে। কিছু বহিরাগত দালালের জন্য সংগঠনকে কালিমালিপ্ত হতে দেব না।”

    বিরোধীদের অভিযোগটা অবশ্য অন্য। বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই থেকে সঙ্ঘ পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা এবিভিপি-র দাবি, নগদের লেনাদেনা নিয়ে নেই বলেই তৃণমূল ছাত্রপরিষদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া হওয়ায় সব চেয়ে বেশি ‘আক্রান্ত’ টিএমসিপি। কারণ ওঁদের স্থানীয় নেতাদের মরশুমি রোজগারের রাস্তাটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ক্যাশ নেই, তাই টিএমসিপি-ও হাওয়া।”

    পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সংগঠন গড়ে তোলার জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া যে কোনও ছাত্র সংগঠনের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। এখন যেহেতু কলেজগুলিতে শাসক ছাত্র সংগঠনেরই রমরমা, তাই তাদের ঘর গোছানোর কাজটা শুরু করতে হবে ক্লাস শুরুর পরই। ভর্তি প্রক্রিয়ায় যে ওয়ার্মআপটা হয়ে যেত, সেটা হচ্ছে না। যদিও তৃণাঙ্কুর এ কথা মানতে চাননি। তাঁর দাবি, “ভর্তি প্রক্রিয়া দিয়ে সংগঠন হয় না। সংগঠন হয় সারা বছর ছাত্রছাত্রীদের পাশে থেকে। আর সেটাই করে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ।” তিনি আরও বলেন, “কেউ কেউ ভাবছে, কলেজ গেটে পতাকা লাগিয়ে দিয়ে, দুটো ইউনিয়ন রুমে ভাঙচুর করে দিয়ে কলেজের দখল নেবে। বিষয়টা অত সহজ নয়। ছাত্রছাত্রীদের মনের দখল টিএমসিপি-রই।”

    গতবার ভর্তি সিন্ডিকেট মহামারির আকার নিয়েছিল। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, মেদিনীপুর থেকে সন্দেশখালি—সর্বত্র এক চিত্র। পার্থবাবুকে ডেকে নিজের বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৎকালীন কলকাতার নগরপাল রাজীব কুমারকে ডেকে বলেছিলেন, ব্যবস্থা নিতে। মমতা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে নবান্ন যাওয়ার পথে নিজে চলে গিয়েছিলেন আশুতোষ কলেজে।

    সেই সময়ে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই এর দায় চাপিয়েছিলেন তৎকালীন টিএমসিপি-র রাজ্যসভাপতি জয়া দত্তর উপর। তারপর জয়াকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেন মমতা। পার্থর অনুরোধেও কাজ হয়নি। এমনকী ২৮ অগস্ট টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান হয় সভাপতিবিহীন।

    ভর্তিপ্রক্রিয়া ডিজিটাল হতেই কলেজ গেট শান্ত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More