সোমবার, ডিসেম্বর ৯
TheWall
TheWall

মাদ্রাসা ভোটে তৃণমূল ৬-এ ৬, দাঁত ফোটাতে পারল না মিম, গোহারা বাম-কংগ্রেস

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: ছিল একটি মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির ভোট। কিন্তু সেই নির্বাচন ঘিরে যে সমীকরণ তৈরি হয়েছিল উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের ভোগ্রামে, তা দেখে অনেকেই বলেছিলেন, এবার হয়তো বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে।

বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল হায়দরাবাদের কট্টর মুসলিমদের দল অল ইন্ডিয়া মজলুলিস-ই-ইত্তেহাদুল-মুসলিমিন তথা মিমের। লড়েছিল তৃণমূল। বিজেপি এই ভোটে নাকি প্রার্থীই খুঁজে পায়নি। উল্টে বাম-কংগ্রেস জোটের প্যানেলকে জেতানোর জন্য পদ্ম শিবির তলায় তলায় প্রচার করেছিল বলে খবর । কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির ছ’টি আসনেই বিপুল ভোটে জিতল তৃণমূলের প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন ২০২১-এর নির্বাচনে রাজ্যের সব আসনেই প্রার্থী দেবে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির মিম

কেন এত আগ্রহ ছিল এই ভোট ঘিরে?

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় তৃণমূলের সমর্থনের ভিতটাই সংখ্যালঘু ভোট। আর সেখানে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল যদি সেই ভোটে ভাগ বসায়, তাহলে সুবিধে হবে বিজেপির। মিম নিয়ে যে তৃণমূলের মধ্যে যথেষ্ট আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল তা স্পষ্ট হয়েছিল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই। দলের কোর কমিটির বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, “মিম হইতে সাবধান হোন। ওরা কিন্তু বিজেপির বি-টিম।” তারপর কোচবিহারের কর্মীসভায় বলেছিলেন, “ওরা বিজেপির কাছে টাকা নেয়। সংখ্যালঘুরা ভুল করবেন না। ওদের বাড়ি হায়দরবাদে। এখানে নয়।”

আরও পড়ুন মিম হইতে সাবধান, ওরা বিজেপির বি-টিম’: দলকে পাখি পড়ানোর মতো বোঝালেন  মমতা

পর্যবেক্ষকদের মতে, হেমতাবাদ একটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল। সেখানে মিম যদি মাদ্রাসা কমিটির ভোটে ভাল ফলাফল করত এবং শাসক দলের প্যানেল যদি সত্যি সত্যিই ধাক্কা খেত, তাহলে এটাকেই বাংলার মডেল করে তুলতে বাংলায় আরও মনোনিবেশ করত হায়দরাবাদের নিজামের হাতে তৈরি দলটি। এমনিতেই বাংলা লাগোয়া বিহারের কিষাণগঞ্জ আসন জেতার পর উত্তরবঙ্গে সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করেছে মিম। কোচবিহার শহর ছেয়ে গিয়েছে মিমের হোর্ডিং-এ। তবে পর্যবেক্ষকদের আরও বক্তব্য, এটা ছিল মিমের আত্মপ্রকাশ। এর মানে এই নয় যে মিম আগামী দিনে বাংলায় জমি শক্ত করার কাজ থামিয়ে দেবে। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা কেউই বলতে পারে না।

রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, এই ফলাফল দেখে হয়তো সার্বিক পরিস্থিতি আন্দাজ করা যাবে না। তবে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, বাংলার সংখ্যালঘুরা মনে করছেন, তৃণমূলই তাঁদের পরীক্ষিত বন্ধু। বিজেপিকে ঠেকাতে পারলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলই পারবে। লোকসভায় ৫৬ হাজারের বেশি ভোটে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় এগিয়েছিল গেরুয়া শিবির। ছ’মাসের মধ্যে সেই ব্যবধান মুছে দিয়ে উপনির্বাচনে জিতেছে তৃণমূল। তার কয়েকদিনের মধ্যে ফের হেমতাবাদের মাদ্রাসা জয় করল ঘাসফুল শিবির। মিম, বাম-কংগ্রেস জোট আর বিজেপির প্রচারকে উরিয়ে দিয়েই।

Comments are closed.