তৃণমূল-এসইউসি সংঘর্ষে উত্তপ্ত কুলতলি, মৃত দুই, ক্ষোভের আগুনে পুড়ল অসংখ্য বাড়ি ও দোকান

উপকূল থানার নাগেনাবাদ এলাকায় শুক্রবার রাতে ঘটনার সূত্রপাত। তৃণমূলের অভিযোগ, এদিন রাত আটটা নাগাদ দলের কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তাদের দলের দুই কর্মী অশ্বিনী মান্না ও নবকুমার গিরি। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ান এসইউসি এবং সিপিএমের কয়েকশো কর্মী। লাঠি, রড, দা ও কুড়ুল দিয়ে ওই দুই তৃণমূল কর্মীকে তারা  এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজনৈতিক হিংসায় জ্বলছে কুলতলি ব্লকের মৈপীঠ। বাম-তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। সংঘর্ষে  এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর খবর ছড়াতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বেলা গড়াতেই মেলে এক এসইউসি নেতার ঝুলন্ত দেহ।  তৃণমূল ও এসইউসি কর্মীদের অন্তত তিরিশটি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। কয়েকটি গ্রামে এখনও ঢুকতে পারেনি পুলিশ।

উপকূল থানার নাগেনাবাদ এলাকায় শুক্রবার রাতে ঘটনার সূত্রপাত। তৃণমূলের অভিযোগ, এদিন রাত আটটা নাগাদ দলের কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তাদের দলের দুই কর্মী অশ্বিনী মান্না ও নবকুমার গিরি। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ান এসইউসি এবং সিপিএমের কয়েকশো কর্মী। লাঠি, রড, দা ও কুড়ুল দিয়ে ওই দুই তৃণমূল কর্মীকে তারা  এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সিপিএম ও এস‌ইউসিআইয়ের ওই কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাই জখম দুজনকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে স্থানীয় জামতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা অশ্বিনী মান্নাকে (৫০) মৃত বলে ঘোষণা করেন। নবকুমার গিরির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় । কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নবকুমার।

ওই ঘটনার পরে রাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয় দু’পক্ষের। পরিস্থিতি সামাল দিতে মইপিট কোস্টাল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন দুই দলের বেশ কয়েকজন। ভোর হতেই উত্তেজনার পারদ বাড়ে। এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করেন যুব তৃণমূল কর্মীরাI এসডিপিও বারুইপুর বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন।

শনিবার বেলা বাড়তে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ে আরও। পরের পর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরইমধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় এসইউসিআই জেলা কমিটির সদস্য সুধাংশু জানার (৫২)। তাঁর স্ত্রী স্থানীয় মৈপীঠ-বৈকুন্ঠপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। সুধাংশুবাবু আত্মহত্যা করেছেন, না তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ।

বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানান, শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ মইপিঠ কোস্টাল থানা এলাকার তৃণমূল নেতা অশ্বিনী মান্নার নেতৃত্বে কিছু লোক এসইউসির জেলা কমিটির সদস্য সুধাংশু জানার বাড়ির কাছে কয়েকটা দোকানে হামলা চালায়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের বাধা দেয় এবং মারধর করে। অশ্বিনী মান্না সহ কয়েকজন আহত হন। শনিবার ভোররাতে অশ্বিনী মারা যান। এই মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছতেই তেতে ওঠে মৈপীঠ। সকাল থেকে জায়গায় জায়গায় শুরু হয় অবরোধ। চলে ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ। শনিবার বেলার দিকে নিজের বাড়ি থেকে মেলে এসইউসির জেলা কমিটির সদস্য সুধাংশু জানার দেহ। তাঁর বাড়িটিও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

এলাকার এসইউসি নেতা জয়কৃষ্ণ হালদারের দাবি, তৃণমূলের লোকজনই প্রথম গণ্ডগোল শুরু করেছিল। তাঁদের দলের গোষ্ঠীদ্ব্বন্দ্বের জেরেই গোলমাল বাধে। পরে তাদের হামলার নিশানা হয় এসইউসি। তৃণমূলের সন্ত্রাসে তাঁদের বহু কর্মী ঘরছাড়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে কুলতলি ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি গণেশ মণ্ডল জানান, রাত থেকে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে এসউইসি। তাঁদের হামলাতেই প্রাণ গেছে এলাকার তৃণমূল নেতা অশ্বিনী মান্নার। জখম আরও বেশ কয়েকজন।

পুলিশ জানিয়েছে হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। টহলদারি চলছে গোটা এলাকায়।

 

.

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More