বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৩
TheWall
TheWall

উপনির্বাচনে বিজেপিকে ফের গোল দিতে প্রস্তুতি শুরু তৃণমূলের, দিদির নির্দেশে ফালাকাটায় রাজীব-মলয়-পুর্ণেন্দু

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে বিজেপির কাছে জোর ধাক্কা খাওয়ার পর জেলায় জেলায় প্রায় গর্তে ঢুকে গিয়েছিলেন শাসক দলের অনেকেই। সম্প্রতি তিন আসনে উপনির্বাচন তাঁদের মনোবল অনেকটাই ফিরিয়ে দিয়েছে। নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় দিদি নিজেও যথেষ্টই আক্রমণাত্মক। এবার আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে জিততে ঝাঁপিয়ে পড়ল তৃণমূল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গতকালই ফালাকাটায় কর্মিসভা করেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, মলয় ঘটক ও পুর্ণেন্দু বসু। গত অক্টোবর মাসে ফালাকাটার তৃণমূল বিধায়ক অনিল অধিকারীর মৃত্যু হয়েছে। তার ফলেই সেখানে উপনির্বাচন হতে চলেছে। হিসাব মতো ৬ মাস তথা এপ্রিলের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন করাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। জানা গিয়েছে রাজীব-মলয়দের দিদি পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছেন, ফালাকাটায় জয় নিশ্চিত করতেই হবে। সন্দেহ নেই, ফালাকাটায় তৃণমূল জিততে পারলে একুশের ভোটের আগে তাদের মনোবল আরও বাড়বে।

২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে ফালাকাটায় জিতেছিল তৃণমূল। সেবার দ্বিতীয় স্থানে থেকে সিপিএম প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়েছিল। আর বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার ভোট। কিন্তু তিন বছরের মধ্যেই হাওয়া ঘুরে যায়। উনিশের লোকসভা ভোটে ফালাকাটায় ২৭ হাজার ভোটে বিজেপির থেকে পিছিয়ে যায় বাংলার শাসক দল। ৩১ হাজার থেকে বিজেপির ভোট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোট।  সুতরাং সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে সেখানে জয় নিশ্চিত করাটা কম চ্যালেঞ্জের কাজ নয়।

তবে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য তা অসম্ভবও নয়। সম্প্রতি খড়্গপুর ও কালিয়াগঞ্জের উপনির্বাচনেই দেখা গিয়েছে যে ৪৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে থাকা আসনও জিতে নিয়েছে তৃণমূল। নিচুতলায় সংগঠন ও মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট ঠিক মতো করতে পারলে ফালাকাটা উপনির্বাচনেও হারানো সম্ভব বিজেপিকে।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, ফালাকাটায় উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূল প্রস্তুতি শুরু করে দিলেও বিজেপি শিবিরে কোনও তৎপরতা এখনও নজরে পড়েনি। দলের এক রাজ্য নেতার কথায়, পার্টিতে অনেকেই ধরে নিয়েছেন যে লোকসভা ভোটে ১৮ টি আসনে জিতেছেন মানেই সেটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে গিয়েছে। বাস্তব যে তা নয় তা তিনটি আসনে উপনির্বাচনের ফলাফলেই বোঝা গিয়েছে। তা ছাড়া দলের মধ্যে সমন্বয়েরও তীব্র অভাব রয়েছে। দু-তিন মাসের মধ্যে যে একটা উপনির্বাচন আসতে চলেছে সে ব্যাপারে কারও ভ্রুক্ষেপ নেই।

Share.

Comments are closed.