বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

এ বার কাট-জমি, দখল করেছিল তৃণমূল নেতা, তালা ভেঙে উদ্ধার করল তৃণমূলই

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কাটমানি উদ্ধার হয়েছে অনেক জায়গায়। এ বার কাট-জমি উদ্ধার হল হুগলির বাঁশবেড়িয়ায়।

জমি দখল করেছিল তৃণমূলের নেতা। পুনর্দখল করে মালিকের হাতে তুলে দিল তৃণমূলের ওই নেতার বিরুদ্ধ গোষ্ঠী।

ঘটনাটা কী?

জানা গিয়েছে বাঁশবেড়িয়া কালীতলা এলাকায় স্বপন ঘোষ নামের এক ভদ্রলোকের ২৭ কাঠা জমি দখল করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা দেবরাজ পাল। দখল মানে কেমন? একেবারে বিনা পয়সায়? নাহ! তা করেননি রাজ্যের মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তর স্নেহধন্য দেবরাজ। যে জমির বাজার মূল্য তিন লক্ষ টাকা কাঠা, সে জমি দেবরাজ নিয়েছিলেন ৫০ হাজার টাকা কাঠায়। ৮১ লক্ষ টাকার জমি সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকায়। এ নিয়ে জমির মালিক কোর্টে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও কোনও বিহিত হয়নি। এলাকার তৃণমূল নেতা থেকে পুরসভার আধিকারিক—সকলকেই জানিয়ে রেখেছিলেন স্বপন ঘোষ। কিন্তু যেই না তপন দাশগুপ্তর ডানা ছাঁটা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে, অমনি বিরুদ্ধ গোষ্ঠী হামলে পড়েছে।

এ দিন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার পুরপ্রধান অরিজিতা শীল, বাঁশবেড়িয়ার তৃণমূল নেতা রাজা চট্টোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, একাধিক কাউন্সিলর শ’পাঁচেক লোক নিয়ে এ দিন স্বপন ঘোষের জমি পুনর্দখলে নামেন। হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বাগানবাড়ির তালা।

পুরপ্রধান অরিজিতা শীল

পুরপ্রধান অরিজিতা শীল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছে কাটমানি ফেরত দিতে। আমরা অনেক দিন ধরে অভিযোগ পাচ্ছিলাম। এ বার এই জমি ফেরতের বন্দোবস্ত করা হল।” দেবরাজের সঙ্গে  যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি হায়দরাবাদে রয়েছেন। তাঁর কথায়, “ওই জমি দখল করা হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে। যে ভাবে আইন মেনে জমি কিনতে হয়, সেভাবেই কিনেছিলাম।” পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “এ ভাবে যে চেয়ারম্যান লোক নিয়ে গিয়ে এ সব করলেন, তাঁদের কাছে কি কোর্টের কাগজ আছে?”

এই এলাকা পড়ে সপ্তগ্রাম বিধানসভার মধ্যে। গত লোকসভায় ২২ হাজার ভোটে এখানে পিছিয়ে তৃণমূল। লিড পেয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। তারপর থেকেই কোণঠাসা দেবরাজ। আর যাঁরা এতদিন দেবরাজের দাপটে কোণঠাসা ছিলেন, তাঁরা নেমে পড়েছেন ময়দানে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তপন দাশগুপ্তকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তিনিও হাত সরিয়ে নেন দেবরাজের মাথার উপর থেকে। ফলে দেবরাজের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে। তৃণমূলেরই একাংশের অভিযোগ, এ রকম আরও জমি ও সম্পত্তি দখল করেছেন দেবরাজ। এবং সবটাই তপন দাশগুপ্তর প্রশ্রয়ে। এ ব্যাপারে তপন দাশগুপ্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন

কিন্তু এই যে এ দিন পুনর্দখল হল, সেখানেও দেখা যায়নি কোনও পুলিশকে। গোটাটাই নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূলের নেতারা। ফলে অনেকেই এ ভাবে দখল নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। দেবরাজ পালের স্ত্রী বীথি পাল বলেন, “জোর করে আমাদের কেনা জমি দখল করিয়েছেন চেয়ারম্যান। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাব বিহিত চাইতে।”

Comments are closed.