বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

সৌমিত্রকে বহিষ্কার: হরিনাম সংকীর্তন করে দলের শুদ্ধিকরণ করল তৃণমূল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খোল-করতাল এবং কীর্তন যে রাজনীতির বৃত্তে ঢুকে পড়তে পারে তা প্রথম দেখিয়েছিলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলার সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলই। বিজেপি-র রথযাত্রার পাল্টা হরিনাম সংকীর্তনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন কেষ্ট মণ্ডল। আর সেই কীর্তন তত্ত্ব এ বার বীরভূম ছাড়িয়ে ঢুকে পড়ল পড়শি জেলা বাঁকুড়াতেও। বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে বহিষ্কারের পর, রাইপুরে অনুষ্ঠিত হলো শুদ্ধিকরণ কর্মসূচি।

ছিল ব্রিগেডের প্রস্তুতি সভা। আর সেই মঞ্চেই কিনা একদল মানুষ খোল-করতাল সহযোগে হরিনাম সংকীর্তন সারলেন। জেলার নেতারা জানিয়ে দিলেন, “পাপ বিদেয় হয়েছে। তাই একটু শুদ্ধ করতে এই নাম কীর্তনের আয়োজন।”

জেলার নেতাদের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই বনিবনা ছিল না বিষ্ণুপুরের সাংসদের। মাস তিনেক আগে জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খাঁ-এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে তোপ দেগেছিলেন সৌমিত্র। সেই অরূপ খাঁ শুদ্ধিকরণ অভিযানের মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিলেন, “আগাছাটাকে দিদি সাফ করে দিয়েছেন। ওঁর জন্যই অনেক মানুষ আমাদের দলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এ বার দেখুন না কত মানুষ তৃণমূলে ফেরেন।”

প্রসঙ্গত, গত বুধবার জোড়া বহিষ্কারের পালা সেরে ফেলেছিল শাসক দল। সৌমিত্র খাঁ-এর সঙ্গেই বহিষ্কার করা হয়েছিল বোলপুরের তৃণমূলের সাংসদ অনুপম হাজরাকে। তারপর অবশ্য সময় নষ্ট না করেই মুকুল রায়ের হাত ধরে সৌমিত্র চলে গিয়েছিলেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীদের সদর দফতরে। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে সৌমিত্র অভিযোগ করে বলেছিলেন, “পিসি-ভাইপো মিলে বাংলায় পুলিশ রাজ চালাচ্ছে।” এর মধ্যেই সৌমিত্রর আপ্তসহায়ককে অস্ত্র আইনে গ্রেফতার করেছে বাঁকুড়া পুলিশ। বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার আগের দিনই তা নিয়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলে খাঁ সাহেব। আপ্তসহায়ককে গুম করার চেষ্টার পাশাপাশি তাঁকে খুন করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও লাইভ ভিডিওতে দাবি করেছিলেন একদা কংগ্রেসের বিধায়ক। এবং তাঁর অভিযোগের তির ছিল বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমল দাসের দিকে।

আপাতত সৌমিত্র ঘাসফুলের প্রাক্তনী। পদ্মই এখন তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। আর ঘাসফুলের নেতাকর্মীরা তাঁর বহিষ্কারকে উদযাপন করছেন একেবারে হরিনাম সংকীর্তন করে।

Shares

Comments are closed.