নজিরবিহীন! রাস্তা তৈরি নিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলেরই সাত সদস্যের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমানঃ রাস্তা তৈরি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। শুধু অভিযোগ আনা নয়, লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে। আর এই অভিযোগ দায়ের করেছেন পঞ্চায়েতেরই সাত তৃণমূল সদস্য। ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে প্রশাসনিক মহলে।

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে। পঞ্চায়েতের সাত সদস্য পঞ্চায়েতেরই প্রধান, উপপ্রধান, শিল্প পরিকাঠামো সঞ্চালক- সহ অফিসের আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষনের অভিযোগ এনেছেন।

জামালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্য সংখ্যা ১২ জন। তার মধ্যে তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত সদস্য ১১ জন। একজন বিজেপির সদস্য। তৃণমূলের ১১ জন সদস্যের মধ্যে সাতজন সদস্য তাঁদের সই করা অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছেন ব্লক, জেলা ও রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে। তাঁরা প্রশাসনের কর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন, সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জামালপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, ওই রাস্তা নির্মাণের কাজের কোনও টেণ্ডার হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরুর আগে কাজের জায়গায় প্রকল্প সংক্রান্ত বোর্ড লাগানো বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ। সাত পঞ্চায়েত সদস্যের আরও অভিযোগ খুব নিম্নমানের বালি, সিমেন্ট ও পাথর দিয়ে ওই সব রাস্তা তৈরি হয়েছে। ফলে রাস্তাগুলি দু’তিন মাসের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই দুর্নীতিতে পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, শিল্প পরিকাঠামো সঞ্চালক- সহ অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীরা জড়িত বলে তাঁদের অভিযোগে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ১০০ দিনের কাজ হচ্ছে। এমনকি কমিউনিটি হল ও কালভার্ট নির্মাণও সঠিক ভাবে হয়নি বলেই অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

যদিও পঞ্চায়েত প্রধান মনিকা মুর্মু এইসব অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেছেন, “সব মিথ্যা অভিযোগ। আমার পঞ্চায়েতে কোনও দুর্নীতি নেই।” প্রধান এমনটা জানালেও উপপ্রধান উদয় দাস বলেন, “রাস্তা নির্মাণ হয়েছে ঠিকই। তবে রাস্তার কাজের সঙ্গে পঞ্চায়েতের কোনও সম্পর্ক নেই। পঞ্চায়েত থেকে রাস্তার কাজের কোনও টেণ্ডার হয়নি, কাউকে কাজের বরাতও দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে শিল্প ও পরিকাঠামোর সঞ্চালক বাচ্চু মাঝির বক্তব্য, “পঞ্চায়েত নয়, গ্রামবাসীরাই টাকা খরচ করে তাঁদের এলাকায় পাকা রাস্তা তৈরি করে নিয়েছে। রাস্তা তৈরির নির্দেশ পঞ্চায়েত দেয়নি। তাই রাস্তা তৈরি নিয়ে পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলারও কোনও মানে হয় না। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এইসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।”

অবশ্য জামালপুর ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রদীপ পাল জানিয়েছেন, “রাস্তার কাজ নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে তা ধরা পড়ে যাবার পরেই পঞ্চায়েতের কর্তারা এখন উল্টো সুর গাইছে। আর পঞ্চায়েতের কর্তাদের কথায় টাকা খরচ করে যারা রাস্তা তৈরি করেছেন তারা এখন চোখের জল ফেলে দিন কাটাচ্ছেন।” জামালপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পঞ্চায়েত ওইসব রাস্তা তৈরি করায়নি বলে আমাকে জানিয়েছে। কাজেই ওইসব রাস্তার নির্মাণ নিয়ে পঞ্চায়েতের কোনও দায় নেই। কেউ যদি যেচে কোথাও রাস্তা নির্মাণ করে থাকে তার দায়ভার পঞ্চায়েত নেবে না।”

এই বিষয়ে জামালপুর বিধানসভার বিজেপি কনভেনার জীতেন ডকাল বলেন, “তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলি আসলে যে দুর্নীতির আখড়া তা প্রমাণ করে দিলেন তৃণমূলের নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্যরাই। পঞ্চায়েতের কর্তাদের কথাতেই প্রমাণ হয়ে গেল তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলি এলাকার উন্নয়নে ব্যর্থ। তাই গ্রামবাসীদেরকেই টাকা খরচ করে রাস্তা তৈরি করে নিতে হচ্ছে।”

জামালপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এই প্রথম উঠল এমনটা নয়। সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নেওয়ার অভিযোগে ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন এই পঞ্চায়েতের ভিএলই পদের কর্মী সুকান্ত পাল ওরফে ফুলকুমার ও তাঁর স্ত্রী ঋষিতা পাল। পরবর্তী সময়ে পঞ্চায়েতের আরও দুই কর্মী সুপ্রতিত দত্ত ও অরিন্দম রায়ের বিরুদ্ধেও সরকারি কাজে অনিয়ম করার অভিযোগ ওঠে। পঞ্চায়েত দফতর অরিন্দম রায়কে সাসপেণ্ড করে। সুপ্রতিত দত্তকে জামালপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত থেকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পঞ্চায়েত দফতর। ফের একবার সেখানে বেনিয়মের অভিযোগ উঠল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More