বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

ব্যান্ডেলে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি চুঁচুড়া হাসপাতালে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যান্ডেলে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান ঋতু সিংয়ের স্বামী দিলীপ রাম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চুঁচুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাথার পিছনে গুলি লেগেছে দিলীপবাবুর। জানা গিয়েছে, ব্যান্ডেল স্টেশনে ট্রেন ধরতে যাচ্ছিলেন দিলীপবাবু। সেই সময় দু’জন দুষ্কৃতী এসে গুলি চালায়।

পুলিশ জানিয়েছে রেলে চাকরি করেন দিলীপ রাম। আপাতত চুঁচুড়া হাসপাতালের আইসিসিইউ-তে ভর্তি রয়েছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, কে বা কারা গুলি চালিয়েছে সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি। তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব।

আহত দিলীপবাবুর স্ত্রী জানিয়েছেন, এর আগেও তাঁর স্বামীর উপর হামলা হয়েছিল। গত ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন হামলা হয় দিলীপবাবুর উপর। এই ঘটনায় লালা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন পঞ্চায়েত প্রধান ঋতু সিং। তাঁর দাবি, লালা জেলে থাকলেও তার ভাইয়েরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনায় হুগলি জেলার তৃণমূল সভাপতি তপন দাশগুপ্ত বলেন, “নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই ধরণের কাজকর্ম বেড়ে গিয়েছে। পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। আমরা অপরাধীদের গরাদের ভিতর দেখতে চাই। নইলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবো।” এর পাশাপাশি পুলিশি নিষ্ক্রয়তারও অভিযোগ তুলে তপনবাবু বলেন, “আমরা জানি কিছু পুলিশকর্মীও দুষ্কৃতীদের মদত দিচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেল পুলিশের সঙ্গে রাজ্য পুলিশও এই ঘটনার তদন্ত করবে।”

সরাসরি না বললেও দিলীপ রামের উপর হামলা হওয়ার পিছনে যে বিজেপিরই হাত রয়েছে তেমনটাই বলছেন তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের একাংশ। লালা নামের এক ব্যক্তির ভাই বিজুই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তাঁদের অনুমান। এই বিজু আবার বিজেপি কর্মী বলেও দাবি করেছে তৃণমূলের একাংশ। যদিও বিজেপি জেলা সভাপতি সুবীর নাগের কথায়, “ভালো করে তদন্ত হলে দেখবেন  শাসক দলই এই ঘটনায় যুক্ত।” পাশাপাশি তিনি এ-ও দাবি করেন, “দলের কোনও বড় দায়িত্বে বিজু যুক্ত নেই। যদি কোনও বিজেপি কর্মী অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে দল তাঁকে নির্দ্বিধায় বহিষ্কার করবে।”

কানাঘুষো শোনা গিয়েছে বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও নাকি যোগাযোগ রাখছিলেন আহত দিলীপ রাম। এই প্রসঙ্গে সুবীরবাবু বলেন, “হ্যাঁ উনি যোগাযোগ করেছিলেন। এর আগেও দেখা গেছে শাসক দলের কেউ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তাঁর বিরুদ্ধে শাসক দল অনেক বড় ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্ত হোক। তাহলেই সব সত্যি জানা যাবে।”

Comments are closed.