বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

Breaking: বিজেপিতে যোগ দিলেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবারই ফেসবুক লাইভে বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমল দাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। দিল্লি থেকে জানিয়েছিলেন বুধবার সক্কাল সক্কাল বাঁকুড়া জেলায় ফিরে তিনি দেখা করবেন পুলিশ সুপারের সঙ্গে। অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর আপ্তসহায়ক গোপীকে ‘গুম’ করে দেওয়া ষড়যন্ত্র চলছে। শাসক দলের সাংসদের এমন অভিযোগে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু  সকালে সৌমিত্র বাঁকুড়ায় ফিরলেন না। বুধবার দুপুরে বিজেপি-র সদর দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন।

এ দিন সকালে মুকুল রায়ের সঙ্গে সংসদ ভবনে যান সৌমিত্র। সৌমিত্রকে পাশে দাঁড় করিয়ে মুকুল রায় জানিয়ে দেন বিজেপি-র পথে আসছেন সৌমিত্র। মঙ্গলবার রাতেই মুকুলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ। ফোনে তাঁর সঙ্গে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহেরও কথা হয় । বিজেপি সদর দফতরে এ দিন মুকুল ছাড়াও ছিলেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় বিজেপি-র নেতৃত্ব।

এমনিতে তৃণমূলে সৌমিত্র খাঁ পরিচিত মুকুল রায়ের লোক হিসেবেই। অনেকেই বলেন, চোদ্দর ভোটে মুকুল যাঁদের টিকিট দিয়েছিলেন, তাঁরাই ‘বিগড়েছেন।’ এই তালিকায় সৌমিত্রর সঙ্গে একই সারিতে নাম রয়েছে বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরারও। শাসক দলের এক নেতার কথায়, মুকুলের কথাতেই শুভেন্দু অধিকারীকে যুব তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে সৌমিত্রকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এমনিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৌমিত্রর কাজে-কম্মে বিশেষ খুশি ছিলেন না। দলের কোর কমিটির মিটিং-এ তো সৌমিত্রকে উদ্দেশ করে দিদি সরাসরি বলেছিলেন, “বালি খাদান আর অন্যের পার্টি অফিস দখল করে কদ্দিন চলবে?” অনেকের মতে, সৌমিত্র আন্দাজ করেছিলেন, উনিশের ভোটে আর দিদি তাঁকে টিকিট দেবেন ন। তাই জোড়াফুল থেকে পদ্ম শিবিরে যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল।

এ দিন সংসদে মুকুল রায় বলেন, শুধু সৌমিত্র নন। আরও ৬ জন তৃণমূল সাংসদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে মুকুল রায় তৃণমূলের এক সেলিব্রিটি মহিলা সাংসদকে নিয়ে এক ব্যক্তির বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে সেই সাংসদকে দেখার জন্য কার্যত হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। তবে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যে মুকুল রায় যোগাযোগ রাখছেন, তা জানেন মমতাও। পুজোর আগেই দলের কোর কমিটির বৈঠকে দিদি বলেছিলেন, “আট-দশ জনকে বিজেপি লাগাতার ফোন করছে। রোজ করছে। কিন্ত কে কার সঙ্গে রাত বিরেতে কথা বলছে, আমি সব জানি। সব খবর আছে। এটা জানবেন আমার নজর সবদিকে রয়েছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, যেহেতু মুকুলের হাত ধরে সৌমিত্রর উত্থান, তাই তাঁকে গুরুদক্ষিণা দিলেন তিনি। কিন্তু আবার অনেকে এ-ও বলছেন, সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি-র যা গ্রাফ, তাতে কতদিন এটা থাকে সেটাই দেখার। তবে, সৌমিত্রর পর কে? রাজনৈতিক মহলের চোখ আপাতত  সে দিকেই।

Shares

Comments are closed.