Breaking: ‘এসডিপিও আমাকে খুন করতে চাইছে’, ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : সপ্তাহ তিনেক আগে ফেসবুকে পোস্ট করে বলেছিলেন, তাঁর উপর ও দলের যুব নেতা কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খাঁ’কে কাঠগড়ায় তুলতে চেয়েছিলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এ বার ফেসবুকে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তিনি। বললেন, তাঁকে খুন করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। এই চক্রান্তের পিছনে নাকি রয়েছেন বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমল দাস।

    মঙ্গলবার বিকেলে দুটি ফেসবুক লাইভ ও একটি ফেসবুক পোস্ট করেন সৌমিত্র খাঁ। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “সুকোমল দাস আমাকে খুন করার ট্রাই করছে তাই আমার অফিসের আপ্তসহায়ক গোপীকে গুম করার ট্রাই করছে।” এ ছাড়াও দুটি ফেসবুক লাইভ করেন সৌমিত্র।

    শাসক দলের সাংসদ, একজন পদস্থ পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনছেন, আর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় হবে না? সৌমিত্রর এই অভিযোগের পর তোলপাড় পড়ে গিয়েছে শাসক দল এবং প্রশাসনে।

    কিন্তু কে এই সুকোমল দাস?

    পুলিশ প্রশাসনের অনেকেই বলেন সুকোমলবাবু যেখানে দায়িত্ব নিয়ে যান, সেখানেই নিজগুণে সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। ২০১১ সালে পালাবদলের পর আরামবাগ থানার আইসি-র দায়িত্বে ছিলেন সুকোমল দাস। একটা সময় আরামবাগ ছিল বামেদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। সেই সময় গোটা আরামবাগ মহকুমা জুড়ে সুকোমল দাস কার্যত দাপিয়ে বেড়াতেন। তন্ময় রায়চৌধুরী তখন হুগলির পুলিশ সুপার। সে সময় হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়া পুলিশ লাইনে কান পাতলেই শোনা যেত, “আরামবাগ বাদ দিয়ে বাকি জেলার এসপি টিআরসি (তন্ময় রায়চৌধুরী)। আরামবাগের এসপি সুকোমল দাস।” এ হেন সুকোমল দাসের বিরুদ্ধে আরামবাগ, খানাকুল অঞ্চলের শাসক নেতাদেরও কম অভিযোগ নেই। কিন্তু তাঁকে ঠেকায় কে! অনেকেই বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুরে একটা সময় ভারতী ঘোষ শাসক দলের হয়ে যে কাজ করতেন, সুকোমল দাসও ওই একই কাজ করতেন আরামবাগে।” পরে তাঁকে আরামবাগ থেকে বিষ্ণুপুরের এসডিপিও-র দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়।

    কিন্তু সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন এসডিপিও সুকোমল দাস?

    দ্য ওয়াল-এর তরফে প্রথমে তাঁকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দেন। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করলে উত্তর দেন অফিসার। সাংসদের দীর্ঘ ফেসবুক লাইভ এবং পোস্ট নিয়ে এসডিপিও সাহেবের সংক্ষিপ্ত জবাব, “আমি কোন কোনও মন্তব্য করব না। আমার কোনও মন্তব্য করার এক্তিয়ারও নেই। যা করার আমার উপর তলার পুলিশকর্তারা করবেন।”

    জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষ্ণুপুরে শাসক দলের মধ্যে দু’টি গোষ্ঠী। একটির নেতৃত্বে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টচার্য এবং অন্য গোষ্ঠীর নেতা বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যাম মুখোপাধ্যায়।প্রসঙ্গত, বাম জমানাতেও বিষ্ণুপুরে দাঁত ফোটাতে পারেনি সিপিএম। বিষ্ণুপুর কলেজের ছাত্র সংসদ কোনওদিন দখল নিতে পারেনি এসএফআই। সেই সময় থেকেই বিষ্ণুপুরের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত শ্যামবাবু। অনেকের মতে, তুষারবাবু এবং শ্যামবাবুর গোষ্ঠীর সঙ্গে সুকোমল দাসও নিজের একটি গোষ্ঠী বানিয়ে ফেলেছেন।

    এ দিন সাংসদ সোশ্যাল মিডিয়ায় যা অভিযোগ করেছেন, তা দিল্লি থেকে। বুধবার তিনি জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার কথাও ঘোষণা করেছেন ফেসবুক লাইভে। সৌমিত্র বলেছেন, “আরামবাগ অথবা বিষ্ণুপুর লোকসভায় প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন সুকোমল। আমি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, এক্ষুণি সুকোমল দাসকে এসডিপিও পদ থেকে সরিয়ে দিন।”

    এখন দেখার সৌমিত্র-সুকোমল যুদ্ধ কী আকার নেয়!

    "আমাকে খুন করতে চাইছে।" বিষ্ণুপুরের এসডিপিও-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ। দেখুন আর কী বলছেন সৌমিত্র খাঁ

    The Wall এতে পোস্ট করেছেন মঙ্গলবার, 8 জানুয়ারি, 2019

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More