মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০
TheWall
TheWall

এক ইনিংসের এমপি! দিদি হয়তো আর টিকিট দেবেন না মুনমুনকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিতে অনেক কিছুই আগাম নিশ্চিত করে বলা যায় না। শেষ মুহূর্তে পৌঁছেও নাটকীয় ভাবে বদল হতে পারে। তবে তেমন কিছু না ঘটলে আপাতত এটা পাকা যে, উনিশের ভোটে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে আর প্রার্থী হবেন না মুনমুন সেন ওরফে শ্রীমতি দেববর্মা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, দিদি-র এই সিদ্ধান্ত শুধু পাকা নয়, একশ শতাংশ ফাইনাল! দলীয় তরফে বাঁকুড়ার পর্যবেক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের বাঁকুড়ার নেতাদেরও এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। প্রসঙ্গত, কদিন আগেই বাঁকুড়া সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০১৪ সালে বাঁকুড়া থেকে সুচিত্রা-কন্যাকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা। প্রবল দিদি হাওয়ায় বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা দীর্ঘদিনের সাংসদ বাসুদেব আচারিয়াকে হারিয়ে সংসদে যেতে অসুবিধে হয়নি রিয়া-রাইমাদের মায়ের। কিন্তু তারপর? গত পাঁচ বছরে কতবার মুনমুন বাঁকুড়ায় গিয়েছেন তা হাতে গুনে বলে দিতে পারেন তৃণমূলের বাঁকুড়ার নেতারা। নিজের কেন্দ্রে মুনমুনের না যাওয়া নিয়ে দলের কোর কমিটির বৈঠকে বিরক্তিও প্রকাশ করেছিলেন দিদি। তৃণমূল সূত্রের মতে, এ হেন পরিস্থিতিতে বাঁকুড়ায় প্রার্থী বদলের ব্যাপারটা অনিবার্যই হয়ে উঠেছে। যদিও কে প্রার্থী হচ্ছেন তা অবশ্য দিদিমণি ছাড়া কেউই জানেন না।

উনিশের ভোটে তৃণমূলের কোন কোন সাংসদকে দিদি পুনরায় টিকিট নাও দিতে পারেন সে ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরে জল্পনা চলছে। এই অবস্থায় গত ১৬ নভেম্বর নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দলের সাধারণ পরিষদের বর্ধিত বৈঠকে মমতা দলকে স্পষ্ট বার্তা দেন। বক্তৃতা শেষ করার পর মঞ্চ ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন মমতা। কিন্তু ফিরে এসে ফের মাইক ধরে বলেন, কে কোথায় প্রার্থী হচ্ছে, কার টিকিট কাটা যাচ্ছে,- এ নিয়ে অনেকে অনেক কিছু লিখছে। ওসব কথায় কান দেবেন না। আমি এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলিনি। কেউ কিছু জানে না।

সন্দেহ নেই, এখন থেকে টিকিট নিয়ে দলে বিভ্রান্তি কাটাতেই এ কথা বলেছিলেন মমতা। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এর পাশাপাশি দিদি তলে তলে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। এমনিতেই জঙ্গলমহলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এ বার বেগ পেতে হয়েছে তৃণমূলকে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার মতো জেলার বেশ কিছু অংশে ঘাস ফুলের জমিতে ফুটেছে পদ্মফুল। বেলপাহাড়ির মতো এলাকায় প্রার্থীই দিতে পারেনি বাংলার শাসকদল। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিক জানেন, চোদ্দর বাঁকুড়ার সঙ্গে উনিশের বাঁকুড়া-পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রামের আসমান-জমিন ফারাক। সাংসদ, বিধায়ক থেকে কাউন্সিলর,পঞ্চায়েত সদস্য, সবার কাছেই দিদির নির্দেশ, ‘নিজের এলাকায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকুন।’তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “মুনমুন বাঁকুড়ার মাটিই চেনেন না। তারপর তো কামড়ে পড়ে থাকার কথা!” এ ব্যাপারে মুনমুন সেনের সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফে। সংসদে যে ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে তাঁর, সেই নম্বর সুইচ অফ রয়েছে। এসএমএস-ও করা হয়েছে বাঁকুড়ার সাংসদকে। কিন্তু তারও কোনও জবাব আসেনি। তিনি জবাব দিলে, এই প্রতিবেদনে তা আপডেট করা হবে।

আরও পড়ুন

BREAKING: ফের রদবদল মমতার মন্ত্রিসভায়! এবার আসতে পারে তিন-চারটি নতুন মুখ

Comments are closed.