Exclusive: ‘নিয়ম ভেঙে’ আইনের ছাত্রী তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দার!

৪১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

শোভন চক্রবর্তী

আইন ভেঙে আইন বিভাগে ভর্তি! অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদের বিরুদ্ধে। আর তা জানাজানি হতেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কুলুপ আঁটলেন মুখে। সুর চড়ালেন আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার ওরফে আফরিন আলি।

কী অভিযোগ অপরূপার বিরুদ্ধে?

জানা গিয়েছে, ২০১৬-১৮ শিক্ষাবর্ষে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন অপরূপা। কিন্তু সাংসদ মানুষ। কখন ক্লাস করবেন? দিল্লি-কলকাতা করেই তো কেটে যায় অর্ধেক সময়। তার উপর আছে নিজের কেন্দ্র সামলানো। সাত সাতটা বিধানসভা এলাকা দেখা তো কম কথা নয়। তাই সাংসদ সময় পাননি ক্লাস করার। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ আবার বেশ কড়া। ৭০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে কাউকে রেয়াত করে না বিইউ। রেয়াত করা হয়নি সাংসদকেও। পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। এই অবধি শুনে তো বলাই যায়, ‘বাঃ কী সুন্দর শৃঙ্খলা!’ শিক্ষা মহলের মতে, সে কথা বলা গেলে তো ভালই হতো। কিন্তু তা আর যাচ্ছে কই!

কেন? ব্যাপারটা কী?

জানা গিয়েছে, এ বছর আবার অপরূপা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত হুগলি মহসিন কলেজে এলএলএম কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু সেই ভর্তি প্রক্রিয়া হয়েছে প্রবেশিকা পরীক্ষা ছাড়াই। নিয়মানুযায়ী, আগের বছরের ড্রপ আউট হোক বা নতুন কেউ, ভর্তি হতে গেলে অ্যাডমিশন টেস্ট দিতেই হবে। কিন্তু অ্যাডমিশন টেস্ট নাকি দেননি অপরূপা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল সভায় সিদ্ধান্ত করে, হুগলি মহসিনে একটি আসন বাড়িয়ে ভর্তি করা নেওয়া হয়েছে চন্দননগরের ভূমি কন্যা তথা রিষড়ার গৃহবধূকে।

এ ব্যাপারে দ্য ওয়াল-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাইচন্দ্র সাহার সঙ্গে। ফোনে প্রশ্ন শুনেই নিমাইবাবুর প্রতিক্রিয়া, “আমি এখন ব্যস্ত আছি। এ ব্যাপারে এখন কোনও কথা বলতে পারব না।” এরপর যোগাযোগ করা হয় রেজিস্ট্রার তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, “জানি না। আপনার কাছে শুনলাম। খোঁজ নিয়ে দেখব।” বিশ্ববিদ্যালয়ের আরএক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “এ সব ব্যাপারে কোনও কথা বললেই ফেঁসে যাব। তাই কিছু বলছি না।” বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের প্রতিক্রিয়া শুনে শিক্ষামহলের অনেকেই বলছেন, বোঝার জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

কিন্তু কী বলছেন সাংসদ?

দ্য ওয়াল-এর তরফে যোগাযোগ করা হয় অপরূপাদেবীর সঙ্গেও। প্রশ্ন শুনে কিছুটা গলা উঁচিয়েই সাংসদ বলেন, “এ ব্যাপারে আমার কোনও বক্তব্য নেই। আপনার যা ইচ্ছে লিখে দিন। যা তথ্য জানেন ছেপে দিন।”

২০০৯ সালে তৃণমূলের প্রবল হাওয়াতে, হুগলির বাকি দুটি লোকসভা জিতলেও আরামবাগ দখলে রেখেছিল বামেরা। কিন্তু ২০১৪ সালে অপরূপাকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ কয়েক দশক বামেদের দখলে থাকা কেন্দ্রে জেতেন তিনি। এরপর নারদা কাণ্ডেও নাম জড়িয়েছিল এই সাংসদের। টাকা নেওয়ার ফুটেজও সামনে এসেছিল। ওই ফুটেজে পরিচারিকার উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমার ওই লাল ব্যাগটা নিয়ে আয় তো ভিতর থেকে।” কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে জেরাও করে এসেছেন। আর লোকসভা ভোট যখন দোরগোড়ায়, তখনই ‘ভর্তি জালিয়াতি’তে নাম জড়াল তাঁর।

আরও পড়ুন-

যেমন মোদী, তেমন দিদি, কলকাতায় এসে তোপ কানহাইয়ার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More