মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

বাবার খোঁজ নিই, খেয়েছ কিনা, ইনস্যুলিন নিয়েছ কিনা: শুভ্রাংশু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা মুকুল রায়ের নিয়মিত খোঁজ রাখেন ছেলে শুভ্রাংশু রায়। জানিয়ে দিলেন নিজে মুখেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরবেলা নয়াদিল্লির বিজেপি সদর দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন অর্জুন সিং। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ‘স্ট্রংম্যান’ তথা ‘বাহুবলী নেতা’ বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এ বার ব্যারাকপুরে কৃষ্ণ আর অর্জুনের জুটি।” মুকুল রায়কে কৃষ্ণ বলে অভিহিত করেছেন ভাটপাড়ার অর্জুন। এঁর পরেই বিকেল বেলা মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন। জানিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথেই হাঁটবেন তিনি। সেই সময়ই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বাবার সঙ্গে কথাবার্তা হয়? বীজপুরের তৃণমূল বিধায়কের তুরন্ত জবাব, “তাঁর সঙ্গে আমার পিতা-পুত্রের সম্পর্ক। ফোনে খোঁজ নিই শরীর কেমন আছে, ইনস্যুলিন নিয়েছ কিনা, খেয়েছ কিনা, এটুকুই!”

দেশের রাজনীতিতে একই পরিবারে ভিন্ন দল করার উদাহরণ কম নেই। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল-বিজেপি ভাঙাগড়ার খেলা আর তাতে মুকুলের পারফরম্যান্স, সব মিলিয়ে শুভ্রাংশুর মন্তব্য কী হয় তা নিয়ে কৌতূহল ছিলই। এ দিন সব কৌতূহলের জবাব দিয়ে দেন মুকুল-পুত্র।

এমনিতে মুকুলবাবু ডায়াবেটিসের রোগী। রোজ ইনস্যুলিন নিতে হয় তাঁকে। তাই ছেলে হিসেবে বাবার খোঁজ নেওয়াটা কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। তার মধ্যে রাজনীতি খোঁজাটা সমীচীনও নয়। এই তো কয়েক মাস আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন শুভ্রাংশু। হঠাৎ এক দিন মাঝ রাতে রক্তবমি। তড়িঘড়ি তাঁকে ভর্তি করা হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। গ্যাস্ট্রো এনটেরলজিস্ট মহেশ গোয়েঙ্কার তত্ত্বাবধানে লিভারের চিকিৎসা হয় তাঁর। ‘তৃণমূল বিধায়ক’ ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে বাঁকুড়া যাওয়া বাতিল করে হাসপাতালে ছুটে আসেন ‘বিজেপি নেতা’ বাবা। সেই সময়ও মুকুলকে দেখা গিয়েছিল, ঘনঘন সিগারেট খেতে। আর ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করতে।

শুভ্রাংশুকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভেন্টিলেশন থেকে আইসিইউ-তে দেওয়ার পরই স্ত্রীকে ফোন করে মুকুলবাবু বলেছিলেন, “চিন্তা কোরো না। তোমার ছেলের বিপদ কেটে গিয়েছে।”

এ দিন সাংবাদিকদের শুভ্রাংশু বলেন, “ধরুন দুটো মিডিয়া হাউস। দুটোতেই একটা করে মার্কেটিং টিম রয়েছে। বাবা আর ছেলে দুটি হাউসে রয়েছেন। তখন কী হবে? বাবা-আর ছেলের মধ্যে হেলদি কম্পিটিশন হবে। এখানেও তাই। বাবা চাইবে বীজপুরে পদ্ম ফোটাতে। আমি সেটা হতে দেব না।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর বাড়িতে মুকুল রায়ের লুচি-আলুরদম খাওয়া এক জিনিস। আর বাবা মুকুল রায়কে ফোন করে শুভ্রাংশুর খবর নেওয়া আর এক জিনিস। এখানে বিজেপি-তৃণমূল হলেও দিনের শেষে সম্পর্কটা বাবা-ছেলের। রক্তের টান।

আরও পড়ুন

শুভ্রাংশুর গলায় অভিষেকের সুর, ‘বীজপুরে দীনেশদাকে সব চেয়ে বেশি লিড দেব’

Shares

Comments are closed.