তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণেই থাকল সঙ্ঘশ্রী, খুঁটিপুজোতে মন্ত্রী-সাংসদ-মেয়র পারিষদ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহের শনিবারই এক রকম ঠিক হয়ে গিয়েছিল, কালীঘাট সঙ্ঘশ্রীর পুজোতে গেরুয়া নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। আজ, রবিবার তাতে সরকারি ভাবে সিলমোহর পড়ে গেল। দিদির পাড়ার পুজো থাকছে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণেই। এ দিন ঘটা করে হল খুঁটিপুজো। তাতে ‘বলো দুর্গা মাইকি’ বলে স্লোগান তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর খুঁটি ধরে তাতে গলা মেলালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায় এবং মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার।

দিন পনেরো আগেই শোনা গিয়েছিল এ বার দুর্গাপুজোয় বড় চমক দিতে পারে বিজেপি। একেবারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় এসে পুজো উদ্বোধন করতে পারেন বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপরই আসরে নামে তৃণমূল।  বৈঠক ডাকেন পুজো কমিটির সভাপতি শিবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক অনিরুদ্ধ চট্টোপাধ্যায়ও। কমিটির তরফে জানানো হয়, বৈঠকের একটাই সিদ্ধান্ত, বিজেপি আর্থিক সাহায্য করতে চাইলেও তা নেওয়া হবে না।

গতবারও এই পুজোর ফিতে কেটেছিলেন মমতা। এই পুজো কমিটির তালিকায় নাম ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। একাংশের সংবাদমাধ্যমে এমনও বলা হয়, এ বার নাকি কার্তিকবাবুকেও সেই তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কার্তিকবাবু জানিয়েছেন, “এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ছোট, হয়তো মিনি স্কার্ট পরতেন, তখন থেকে সঙ্ঘশ্রীর ঠাকুর দেখতে আসেন। এখানে সব ধর্ম, সব বর্ণের মানুষ আছেন। এখানে আমি বহু দিন আছি। সঙ্ঘশ্রী ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। এখানে রাজনীতি ঢোকানো মুশকিল। কিন্তু এই যে বার বার রাজনীতি আনার চেষ্টা হচ্ছে, এটা এলাকার মানুষ মেনে নেবে না।” পুরনো কমিটিই যে এ বারের পুজো পরিচালনা করছে তা-ও স্পষ্ট করেন কার্তিকবাবু।

এমনিতেই বাংলার বিজেপি নেতাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া নির্দেশ, দুর্গাপুজোকে জনসংযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সত্যি সত্যি যদি কালীঘাটে দিদির পাড়ায় অমিত শাহ এসে পুজো উদ্বোধন করতেন, তা নিয়ে যে জোর চর্চা হতো এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, শাসকদল সেটাই ঠেকাতে চেয়েছিল। শেষমেশ সঙ্ঘশ্রীর পুজো গেরুয়া শিবির কব্জা করতে পারল না। নিয়ন্ত্রণ থাকল তৃণমূলের হাতেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More