আমতায় আড়াই বছর পরে বাড়িতে ফিরতেই খুন তৃণমূল নেতা, ফেরার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান

আড়াই বছর পরে পুলিশ-প্রশাসনের আশ্বাসে গ্রামে ফিরেছিলেন তিনশোর বেশি। তাঁদের মধ্যে সাত জন গ্রাম পঞ্চায়েতের ও দু’জন পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচিত সদস্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার আমতায় রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মেরে খুন করা হল সদ্য গ্রামে ফেরা এক তৃণমূল নেতাকে। তাঁর নাম সমীর কাঁড়ার (৩৮)। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই খুন বলে এলাকার লোকজন মনে করছেন।

    রাজনৈতিক গোলমালের জেরে গত পঞ্চায়েত ভোটের পর থেকে গ্রামছাড়া ছিলেন পঞ্চায়েতের সাত জন সদস্য ও পঞ্চায়েত সমিতির দু’জন সহ আমতার চন্দ্রপুরের অন্তত তিনশো জন। পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় তাঁরা গত শনিবার গ্রামে ফেরেন। সমীর কাঁড়ারও ফেরেন। তাঁর বৌদি সবিতা কাঁড়ার চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য। তিনিও এলাকাছাড়া ছিলেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে বোর্ড গঠন নিয়ে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের ফলেই এক গোষ্ঠীর লোকজনকে গ্রামছাড়া হতে হয়েছিল বলে এলাকা সূত্রে খবর।

    শনিবার ঘরে ফেরার পরে সোমবার সন্ধ্যায় দলের অন্যদের সঙ্গে দেখা করে যান সমীর। সন্ধ্যা সাতে সাতটা–আটটা নাগাদ দলের কর্মীদের সঙ্গে যখন তিনি দেখা করে ফিরছেন তখন জনা পনেরো লোক তাঁর উপরে চড়াও হয়ে বাড়ির কাছ থেকে টানতে টানতে নিয়ে যায় জমির ধারে। রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মেরে পেটে শাবল ঢুকিয়ে পুকুরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি কোনও রকমে পালিয়ে পুলিশের কাছে আশ্রয় নেয়। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাঁর নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

    রাতেই পুলিশ নিহতের দেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে দেহ পাঠিয়ে দেয়। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী টহল দিচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে ব়্যাফ।

    শনিবার রাতে এলাকা ছেড়ে পালানো তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ফেরানোর পর থেকে এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছিল। আমতা থানা থেকে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছিল গ্রামে। তার পরেও এই ঘটনা ঘটল। পুরো গ্রাম মঙ্গলবারও থমথমে। নিহতের দাদা শিশির কাঁড়ার বলেন, “আড়াই বছর গ্রামছাড়া থাকার পরে ভাই ফিরেছিল। পুলিশ-প্রশাসন ওদের আশ্বাস দিয়েছিল। তার পরেও ওরা মেরে দিল।” তবে ওরা কারা সে কথা তিনি বলেননি। ঘটনার পর থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিঠুন ওরফে শেখ ফারুক মোল্লা ফেরার। তাঁর অনুগামীদেরও গ্রামে দেখা যাচ্ছে না।

    উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক নির্মল মাজি বলেন, “এটা সিপিএম ও বিজেপি পরিকল্পনা করে করেছে। আমরা প্রশাসনের উপরে দায়িত্ব দিয়েছি যাতে আসামিদের যত শীঘ্র সম্ভব গ্রেফতার করা যায়।” বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি (গ্রামীণ) অনুপম মল্লিক বলেন, “ওই অঞ্চলে আমাদের কোনও সদস্যই নেই। সবই তৃণমূলের। তাই এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। এটা ওদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। এখন বিজেপির উপরে চাপানো হচ্ছে।”

    হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার সৌম্য রায় বলেন, “ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরে জানা যাবে কেন ও কী ভাবে ওই ব্যক্তি খুন হয়েছেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More