সোমবার, এপ্রিল ২২

“বিরোধী কর্মীদের ছবি তুলে রাখুন, ভোট মিটলেই বদলা”, অভিষেক ঘনিষ্ঠ নেতার হুমকি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১৯ মে ভোটগ্রহণ ডায়মন্ড হারবার আসনে। যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে চলছে জোর প্রচার। আর তারই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হল চাঞ্চল্য। ভোট মিটলেই বিরোধী কর্মীদের বুঝে নেওয়া হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামী শ্রীমন্ত বৈদ্যর বিরুদ্ধে।

গত ৮ এপ্রিল একটি জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখার সময়ে বিরোধী কর্মীদের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেওয়ার হুমকি দেন। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু বিরোধীদেরই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের যে সব কর্মী এখন দলের সঙ্গে নেই তাদেরও বদলার হুমকি দেন ওই ঘাসফুল নেতা। শ্রীমন্ত বৈদ্য বলেন, “দলে থেকে যাঁরা দলের সঙ্গে বেইমানি করবে তাঁদের সঙ্গে বেইমানি করতে আমরা রাজি আছি। পঞ্চায়েত ভোটে করেছি, কথা দিলাম লোকসভা ভোটেও ওই বেইমানদের সঙ্গে আমরা বেইমানি করব।”

কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ভোট হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বুথে বিরোধীদের পা কাঁপবে একটা পোলিং এজেন্ট দিতে। আর যদি পোলিং এজেন্ট দেওয়ার ক্ষমতা থাকে, তাদের আমরা এখন কিছু বলব না। যারা দেওয়াল লিখবে তাদেরকে কিচ্ছু বলব না। আমি অনুরোধ করে গেলাম, তাদের একটা করে ছবি তুলে রাখবেন। ভোটের পরে কামড়া পঞ্চায়েত চলে যাবে না। ভোটের পরে পঞ্চায়েত সমিতি চলে যাবে না। ভোগের পরে সোনালি গুহই থাকবেন এমএলএ, লোকসভা ভোটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই জিতবেন, রাজ্য সরকারও থাকবে। আমাদের পুলিশও থাকবে। তার পরে ছবি দেখে কী করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে নিতে হয় তৃণমূল কংগ্রেস জানে।”

দেখুন সেই ভিডিও

ভোট মিটলেই যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে সেটা বোঝাতে শ্রীমন্ত বৈদ্য বলেন, “২৩ তারিখে ওখানে ভোট বাক্স খোলা হবে আর কামড়া অঞ্চলে যারা বিরোধিতা করবে তাদের খাতাও খোলা হবে, এটা যেন মনে রেখ বন্ধু।”

এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা বসিরহাট কেন্দ্রের প্রার্থী সায়ন্তন বসু বলেন, “যিনি এত বড় বড় কথা বলছেন তিনি ২৩ মে-র পরে কোথায় থাকবেন সেটা আগে ভাবুন। ওই দিনটার পরে পরে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারটাই তো থাকবে না। উনি কী করে বদলা নেবেন?” সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “গোটা তৃণমূলটা একটা ক্রিমিনালদের সংগঠঙে পরিণত হয়েছে। যে শ্রীমন্ত  বৈদ্য এত বড় বড় কথা বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ, তিনি দলের কাউন্সিলরকে গুলি করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”

আরও পড়ুন

পাকিস্তান কি তৃণমূলের মাসতুতো ভাই? পাহাড় থেকে মমতাকে প্রশ্ন অমিতের

Shares

Comments are closed.