শনিবার, মার্চ ২৩

আলিপুরদুয়ার ডিএম কাণ্ড: দলীয় কর্মীদের চাপে অবশেষে মুখ খুলল তৃণমূল

নিলয় দাস

ফালাকাটা: আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক কাণ্ডে নিচু তলার কর্মীদের চাপে এ বার মুখ খুলল শাসক দল। তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মোহন শর্মা পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, “কোনও আমলাতান্ত্রিক সরকার নয়! রাজ্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার চলছে।”

মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল ভিডিও। থানার মধ্যে ঢুকে পুলিশি হেফাজতে থাকা এক অভিযুক্তকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছেন ডিএম নিখিল নির্মল। তিনি তো একা নন! সঙ্গে আবার স্ত্রীও। রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে আলচনা শুরু হয় জাতীয় স্তরেও। এমনকী আইএএস অ্যসোসিয়েশনও জেলাশাসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। বিরোধীরাও সরব হয়েছেন। কিন্তু ওই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও মুখ খোলেনি শাসক দল। এ নিয়ে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মাচ্ছিল। অবশেষে বুধবার দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মোহন শর্মা। দ্য ওয়াল-কে তিনি বলেন, “রাজ্যে মা-মাটি-মানুষ-এর সরকার চলছে। থানার ভিতর ঢুকে কোনও বিচারাধীন বন্দিকে মারধর করার ঘটনা আমরা কোনওভাবেই সমর্থন করি না। আমলাতন্ত্রকে প্রশয় দেন না মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার এই ঘটনায় যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিচ্ছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী, বাম আমলে রাজ্যের যেখানেই অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে স্পটে পৌঁছে যেতেন। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আলিপুরদুয়ার জেলার বহু কর্মী ও সমর্থক কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁর রাজত্বে একজন জেলা শাসক ও তাঁর স্ত্রী কীভাবে এমন কাণ্ড ঘটিয়ে পার পেতে পারেন তা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। ইতিমধ্যেই নবান্ন ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে নিখিল নির্মলকে। কিন্তু জেলা নেতারা দু’দিন ধরে মুখ না খোলায় রীতিমত জলঘোলা শুরু হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, কর্মীদের চাপেই ডিএম কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলতে একপ্রকার বাধ্য হলেন মোহন শর্মা।

Shares

Comments are closed.