বুধবার, জুলাই ১৭

একুশ জুলাই ধর্মতলায় লোক হবে তো, উদ্বেগ তৃণমূলেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে ব্যারাকপুর হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। তার পর যে দিন প্রথম বার নৈহাটিতে সভা করতে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেখা গেল রাস্তার উপরে টেনেটুনে হাজার চারেক লোকের ভিড়। মানে ওই টুকুই লোক জড়ো করতে পেরেছে দল। জেলায় তৃণমূলের প্রায় আড়াই ডজন বিধায়ক, হাফ ডজন মন্ত্রী, অথচ সে দিন গাড়ি ভাড়া করে লোক আনতে হয়েছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা থেকে!

বলতে গেলে সে দিনের ওই ছবিতেই যেন অশনিসংকেত দেখেছিল শাসক দল। আর এখন একুশ জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের আগে দলের মধ্যেই বড় প্রশ্ন উঠেছে, লোক হবে তো?

গত প্রায় দশ-বারো বছর ধরে একুশে-র ছবিটা কম বেশি একই রকম। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে ওই সভার অন্তত এক মাস আগে থেকে জেলায় জেলায় প্রস্তুতি বৈঠক শুরু হয়ে যায়। জেলা স্তরে সভা সমাবেশ ডাকা হয়। আর তাতে নেতৃত্ব দেন, সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা। শুধু তা নয়, সমাবেশের মাত্র দু’সপ্তাহ বাকি। এত দিনে কলকাতা শহর ছেয়ে যায় একুশের পোস্টার, ব্যানারে। মেট্রোর সমস্ত পিলারে লাগানো হয়ে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোর্ডিং। জেলায়-মফস্বল শহরেও মমতার ছবি দেওয়া হোর্ডিংয়ে ছয়লাপ হয়ে যায়।

প্রশ্ন হল, কোথাও কি তেমন কিছু দেখা গিয়েছে?

কিন্তু কেন এমন হাল?

তৃণমূলের একাংশ নেতার মতে, লোকসভা ভোটে আঠারোটা আসন হারিয়ে দলের মনোবলে জোর ধাক্কা লেগেছে। এতটাই যে একুশের সভা নিয়েও উৎসাহে ভাটা পড়েছে। তবে দলের অনেক নেতার মতে, কাটমানি বিতর্কেও নিচু তলায় দল বেসামাল। উৎসাহ না থাকার সেও এক কারণ। কেন না, দল স্বীকার করুক বা না করুক, নিচু তলার বহু কর্মী সমর্থক বারো মাস তৃণমূলের সঙ্গে জুড়ে থাকেন জীবিকার কারণে। তা সে সিন্ডিকেট হোক বা অন্য কোনও ভাবে। দলের আদর্শ বা আবেগের কোনও প্রাসঙ্গিকতাই সেখানে নেই। ফলে উপার্জনের একটা রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা অন্য জীবিকার সন্ধান করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তখন তৃণমূলে মন না থাকারই কথা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নিচের তলায় অনেকে ভয় পেতেও শুরু করেছেন। লোকসভা ভোটের পর যে ভাবে জেলায় জেলায় বিজেপি-র প্রভাব বাড়ছে, তাতে অনেকেই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

এ ছাড়া লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সব নেতাদের ডেকে বলেছিলেন, জেলায় জেলায় জনসংযোগ যাত্রা করতে হবে। সাধারণ মানুষের সমর্থন ফের ফিরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু আদতে দেখা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারীর মতো কিছু নেতা এই যাত্রা করলেও সব নেতা মিলে ব্যাপক স্তরে এই কর্মসূচি নিতে পারেনি তৃণমূল। তারও প্রভাব পড়তে পারে একুশের সমাবেশে।

হিসাব মতো একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে প্রতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী সমর্থক আসেন। এ বার উত্তরবঙ্গে ধুয়ে মুছে গেছে তৃণমূল। দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত একটা আসনেও জেতেনি। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে এ বার সেরকম লোক আসবে না বলেই আশঙ্কা রয়েছে। একই ভাবে পশ্চিমাঞ্চল তথা ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতেও একুশের সভা নিয়ে উৎসাহে ভাটা রয়েছে। প্রশ্ন হল, তা হলে কি লোক হবে না?

তৃণমূলের একাধিক নেতা মন্ত্রীর মতে, ধর্মতলার যেখানে প্রতি বছর সভা হয়, সেখানে লাখ খানেক লোক হলেই ভরাট দেখায়। দলের লক্ষ্যই হল, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, হাওড়া, হুগলি ও উত্তর চব্বিশ পরগণা থেকে লোক এনে যথাসম্ভব সভাস্থল ভরানো। এই জেলা গুলির সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে প্রচুর কর্মী সমর্থক আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মোটামুটি ভাবে দু-তিন লক্ষ লোক জড়ো করতে পারলেই মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

Comments are closed.