বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

তৃণমূলে তৃণমূলে রক্তারক্তি, রাতভর থানা ঘেরাও

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বারবার দলের সভাগুলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করতে কড়া দাওয়াই দিচ্ছেন। কিন্তু কর্মীরা যে কে সেই। এ বার তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে রক্তারক্তি হলো উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর রাতভর চলল থানা ঘেরাও। নামল র‍্যাফ। পরিস্থিতি কন্ট্রোলে আনতে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৬ ঘণ্টা দফায় দফায় বৈঠক করলেন সাংসদ বিজয় বর্মন। এত কিছুর পর জট তো কাটেইনি উপরি থানা থেকে বেরিয়ে সাংসদ বললেন, ‘তেমন কিছু হয়নি।’

বুধবার বিকেলে ব্রিগেডের প্রস্তুতির জন্য জলপাইগুড়ি জেলার তৃণমূলের কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগঠনের ডাকে সভা ছিল জেলাপরিষদ হলে। সভার প্রধান বক্তা ছিলেন বেচারাম মান্না। বেচা’র সভাতেই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, কৃষ্ণ দাস গোষ্ঠী ফেলে পেটায় বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা কৌস্তুভ তলাপাত্রকে।

ঘটনার সূত্রপাত একেবারেই অন্যভাবে। জেলাপরিষদ হলের উল্টোদিকেই কৌস্তুভের বাড়ি। কৃষ্ণ দাস গোষ্ঠীর লোকজন এসে কৌস্তুভের বাড়ির সামনে মোটর সাইকেল রাখেন। বারণ করেন কৌস্তুভ। কিন্তু সে সব কানে না তুলেই সভায় ঢুকে যান কৃষ্ণ অনুগামীরা। অভিযোগ, এরপর নাকি কৌস্তুভ নিজের অনুগামীদের জড়ো করে মোটর সাইকেলের হাওয়া খুলতে শুরু করেন। তখনই কৃষ্ণ দাস এবং তাঁর দলবল, কৌস্তুভকে তুলে নিয়ে হলের ভিতর চলে যায়। বেচারাম মান্নার সামনেই চলে মার। কৌস্তুভ গোষ্ঠীর অভিযোগ, গোটা ঘটনার নেতৃত্ব দেন কৃষ্ণ।

এরপর পুলিশ এসে কৌস্তুভকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। কৌস্তুভের মা গিয়ে এফআইআর করেন থানায়। রাতেই কৃষ্ণ গোষ্ঠীর দু’জন মজনু এবং জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর তারপরেই গভীর রাত থেকে থানায় লোক জমায়েতের কল দেন কৃষ্ণ। অবরুদ্ধ হয়ে যায় থানা। সকাল হতে আরও লোক জমতে শুরু করে।

স্থানীয় তৃণমূলের একাংশের মতে, এই ঘটনার সূত্রপাত গত নভেম্বরে। দলেরই একটি কর্মসূচিতে বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর অন্য এক নেতা লুফতর রহমানকে বেধড়ক পিটিয়েছিলেন কৃষ্ণ। স্থানীয়ভাবে কৃষ্ণকে অনেকে আবার উত্তরবঙ্গের কেষ্ট দা (অনুব্রত মণ্ডল) বলেও ডাকেন।

বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে, র‍্যাফ নামাতে বাধ্য হয় প্রশাসন। অভিযোগ, সাংসদ বিজয় বর্মন ধৃতদের ছাড়াতেই থানায় এসেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মজনু এবং জাহাঙ্গিরকে ছাড়েনি পুলিশ। একজন সাংসদ কী ভাবে এই ভূমিকা নেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

তবে জলপাইগুড়িবাসীর অনেকের মতে, এতে থামবে না। কয়েক দিনের মধ্যেই না আরও বড় ঘটনা ঘটে!

Shares

Comments are closed.